বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা

আমার মাতা বিদুষী মহিলা ছিলেন। তিনি শৈশবকালে আমাকে বেদ সম্বন্ধে শিক্ষা দান করিয়াছিলেন।” কাজেই দীপঙ্করের বাল্য জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা যে উত্তমরূপে তাঁহার মাতার নিকট হইতে হইয়াছিল তাহা আমরা দীপঙ্করের নিজের উক্তি হইতে বুঝিতে পারিতেছি।

 দীপঙ্করের বাল্য জীবনেই তাঁহার প্রতিভার পরিচয় পাওয়া গিয়াছিল। যেমন বয়স বাড়িতে লাগিল, তেমনি তাঁহার প্রতিভারও বিকাশ পাইতে লাগিল। জেতারি তাঁহার অদ্ভুত মেধা ও গভীর অভিনিবেশ দর্শনে চমৎকৃত হইয়াছিলেন। উনিশ বৎসর বয়সে দীপঙ্কর ওদন্তপুরী বিহারের আচার্য্য পরম পণ্ডিত শীলরক্ষিতের নিকট হইতে ভিক্ষুব্রতে দীক্ষা লাভ করেন।

 অল্প সময় মধ্যেই দীপঙ্কর অনেকগুলি হিন্দু ও বৌদ্ধ দর্শন সম্বন্ধে অসাধারণ পাণ্ডিত্য লাভ করেন। তাঁহার যশঃ দেশবিদেশে বিস্তৃতি লাভ করিল। দীপঙ্করের সঙ্গে তর্ক করিয়া তাঁহাকে পরাস্ত করিবার জন্য পণ্ডিতেরা সব ভারতের নানা প্রদেশ হইতে আসিতে লাগিলেন। কিন্তু কেহই তাঁহাকে তর্কে পরাস্ত করিতে না পারিয়া ‘অবনত মস্তকে’ দেশে প্রত্যাগমন করিতেন। দীপঙ্করের বয়স যখন পঁচিশ বৎসর তখন তিনি একজন প্রসিদ্ধ নৈয়ায়িক ব্রাহ্মণকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করিয়া অসীম গৌরব লাভ করিয়াছিলেন। ইহার