বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

পরেই দীপঙ্কর ওদন্তপুরী বা ওদন্তপুরের বৌদ্ধাচার্য্য শীলরক্ষিতের নিকট হইতে “শ্রীজ্ঞান” উপাধি লাভ করেন। একত্রিশ বৎসর বয়সে তিনি ভিক্ষু আশ্রমের শ্রেষ্ঠ সম্মান লাভ করেন। অতঃপর দীপঙ্কর মগধের প্রসিদ্ধ ও পারদর্শী বৌদ্ধ আচার্য্যগণের নিকট সমগ্র বৌদ্ধশাস্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করেন।

 ভিক্ষু হইবার পর দীপঙ্কর বিক্রমশীলা বিহারে যাইয়া আশ্রয় লাভ করেন। সেখানে অল্প দিনের মধ্যেই সকলের নিকট প্রধান পণ্ডিত বলিয়া বিবেচিত হইয়াছিলেন। তাঁহার জ্ঞান-তৃষ্ণা দিন দিনই বাড়িতে লাগিল। নানা বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করিয়াও তাঁহার জ্ঞানস্পৃহা নিবৃত্ত হইল না, বরং দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। আরও অধিক শিক্ষা লাভের জন্য এবং ধর্ম্ম সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য তাঁহার চিত্ত ব্যাকুল হইল। কিছুতেই যেন তিনি অন্তর মধ্যে তৃপ্তি লাভ করিতে পারিতেছিলেন না।

 সে সময়ে সুবর্ণদ্বীপ (ব্রহ্মদেশ) বৌদ্ধ ধর্ম্মের শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করিয়াছিল। চন্দ্রকীর্ত্তি সেখানকার প্রধানতম আচার্য্য ছিলেন। বৌদ্ধধর্ম্ম শাস্ত্র সম্বন্ধে তিনি ছিলেন মনীষী ব্যক্তি। দীপঙ্কর অবশেষে তাঁহার নিকট যাইতে সঙ্কল্প করিলেন। এবং এক শুভদিনে একখানি বৃহৎ নৌকা বা সেকালের জাহাজে আরোহণ করিয়া কয়েকজন বণিকের সঙ্গে সুবর্ণদ্বীপের দিকে