বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান-অতীশের তিব্বত-যাত্রা

যাত্রা করিলেন। ভীষণ সমুদ্রবক্ষে প্রকাণ্ড তরণী প্রচণ্ড ঝটিকা ও তুফানের মধ্য দিয়া ভাসিয়া চলিল। পথিমধ্যে নানা বাধা বিঘ্ন ঘটিল, অবশেষে প্রায় তের মাস সমুদ্রের জলে ভাসিতে ভাসিতে পরে তাঁহাদের তরণীখানি আসিয়া সুবর্ণদ্বীপের উপকূলে উপস্থিত হইল। দীপঙ্করের মনোবাসনা পূর্ণ হইল।

 দীপঙ্কর দীর্ঘ দ্বাদশ বৎসর কাল সুবর্ণদ্বীপে থাকিয়া, সেখানকার প্রচলিত বৌদ্ধধর্ম্ম সম্বন্ধে বিবিধ জ্ঞানলাভ করিয়া তথাকার বৌদ্ধধর্ম্মের সংস্কার করেন। অভীষ্ট বিষয়ে সিদ্ধিলাভ করিয়া তিনি পুনরায় কতকগুলি বণিকের সহিত একখানি বৃহৎ অর্ণবযানে আরোহণ করিয়া স্বদেশে প্রত্যাগমন করেন। আসিবার সময় পথে তিনি একে একে তাম্রদ্বীপ ও অরণ্য-দ্বীপ প্রভৃতি দেখিয়া আসিয়াছিলেন।

 দেশে ফিরিয়া আসিলে পর মগধের বৌদ্ধেরা দীপঙ্করের পাণ্ডিত্যে, ধর্ম্মজ্ঞানে ও চরিত্র-প্রভাবে মুগ্ধ হইয়া তাঁহাকে সাদরে বরণ করিয়া লইলেন। রাজা নয়পাল তাঁহার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হইয়া তাঁহাকে বিক্রমশীলা বিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করিলেন। তখন নালন্দার চেয়েও বিক্রমশীলা বিহারের খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অধিক ছিল। অনেক বড় বড় লোক, অনেক বড় বড় পণ্ডিত, বিক্রমশীলা হইতে লেখাপড়া শিখিয়া শুধু ভারতবর্ষে নয়, তাহার বাহিরেও বিদ্যা ও ধর্ম্ম প্রচার করিয়াছিলেন।