হিমালয়-অভিযান
বিক্রমশীলা বিহারের রত্নাকর-শান্তি একজন খুব তীক্ষ্ণবুদ্ধি নৈয়ায়িক ছিলেন। প্রজ্ঞাকরমতি, কাশ্মীর-নিবাসী রত্নবজ্র, গৌড় নিবাসী জ্ঞানশ্রীমিত্র প্রভৃতি বহু সংখ্যক গ্রন্থকার ও পণ্ডিতের নাম বিক্রমশীলার মুখ উজ্জ্বল করিয়া রাখিয়াছিল। এরূপ বিহারের অধ্যক্ষ হওয়া সৌভাগ্যের কথা। দীপঙ্কর অনেক সময় ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের সঙ্গে তর্ক ও বিচারে প্রবৃত্ত হইতেন ও তাহাতে জয়লাভ করিতেন।
তিব্বতীয় ভাষায় রচিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের (অতীশের) জীবন-চরিত হইতে জানা যায় যে নয়পালের রাজত্বকালে “কর্ণ” রাজ্যের রাজা মগধ আক্রমণ করেন। নয়পাল দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে বিক্রমশীলা বিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করিয়াছিলেন। প্রথম যুদ্ধে গৌড়সেনা ‘কর্ণ’ রাজ্যের সেনা কর্ত্তৃক পরাজিত হইয়াছিল এবং শত্রুগণ রাজধানী পর্য্যন্ত অগ্রসর হয় কিন্তু পরে নয়পাল জয়লাভ করেন। অবশেষে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের যত্নে উভয় পক্ষের মধ্যে মৈত্রী স্থাপিত হইয়াছিল।
দীপঙ্কর যখন বিক্রমশীলা বিহারের অধ্যক্ষ হইলেন সে সময়ে সেখানে ৫৭ জন প্রসিদ্ধ পণ্ডিত বাস করিতেন। বিক্রমশীলা বিহার যেরূপ বৃহৎ ছিল, তেমনি তাহার ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত চমৎকার। এই বিহারের সম্মুখস্থিত প্রাচীর গাত্রের দক্ষিণদিকে নাগার্জ্জুনের মূর্ত্তি চিত্রিত ছিল এবং বাম পার্শ্বে স্বয়ং দীপঙ্করের
৮