দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান-অতীশের তিব্বত-যাত্রা
দীপঙ্কর কিছুতেই তিব্বতে যাইতে চাহিলেন না। তিনি বিনীতভাবে বলিলেন—“আমার সোণার দ্বারা কোনও প্রয়োজন নাই। আমি সোণা দিয়া কি করিব?” তিনি আরও বলিলেন, “আমাকে দুইটী কারণে তোমরা তিব্বতে লইয়া যাইতে চাহিতেছ—প্রথমতঃ সুবর্ণ প্রাপ্তির লোভ, দ্বিতীয়তঃ সিদ্ধদেবতারূপে পরিগণিত হইবার জন্য—ইহার একটির প্রতিও আমার আকর্ষণ নাই। কাজেই আমি আমার তিব্বত-যাত্রার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলিয়া মনে করি না।” রাজদূত দীপঙ্করের এইরূপ উক্তি শুনিয়া বিষণ্ণ মনে স্বদেশে ফিরিয়া গেল।
রাজা লামা জে-সে-হোড রাজদূতের মুখে দীপঙ্করের সমস্ত বিবরণ শুনিয়া দীপঙ্করকে আনিয়া তিব্বতের ধর্ম্ম-সংস্কার করিবার জন্য অতি মাত্রায় আগ্রহান্বিত হইয়াছিলেন। রাজা জে-সে-হোড বৃদ্ধ ছিলেন। তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র চ্যাং-চুব রাজপদ গ্রহণ করিলেও তিনি সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুর ন্যায়ই জীবন যাপন করিতেন।—চ্যাং-চুব রাজা হইয়াই এক ধর্ম্মসভার আহ্বান করিলেন। সেই সভায় তিব্বতের ঐ অঞ্চলের যত সব ধার্ম্মিক শ্রমণগণ আসিয়া মিলিত হইলেন। রাজা তাঁহাদিগকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন,—“আপনারা প্রত্যক্ষভাবে দেখিতে পাইতেছেন যে আমাদের দেশে ধর্ম্মের বিশেষ অবনতি হইয়াছে। ভিক্ষুদের মধ্যে মতভেদ চলিতেছে। স্বর্গত মহারাজ ধর্ম্মের
১১