বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

সংস্কারের জন্য পূর্ব্বে যে তেরোজন পণ্ডিত আনাইয়াছিলেন তাঁহারাও এখানে ধর্ম্ম-সংস্কার সম্বন্ধে কোনও কার্য্য করিতে পারেন নাই। এইরূপ স্থলে যেরূপেই হয়, স্বর্গীয় মহারাজার আদেশ প্রতিপালন করিতে হইবে। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত ব্যক্ত করুন। উপস্থিত শ্রমণগণ সকলেই নৃপতি চ্যাং-চুবের এই ন্যায়সঙ্গত প্রস্তাব সমর্থন করিলেন।

 এই সভায় বিনয়ধর নামক একজন বৌদ্ধ শ্রমণ উপস্থিত ছিলেন। ইনি পূর্ব্বেও কয়েক বৎসর ভারতবর্ষে বাস করিয়াছিলেন। সংস্কৃত ভাষার সহিত ইঁহার পরিচয় ছিল। বিনয়ধরের বয়স তখন সাতাইশ বৎসর মাত্র ছিল। রাজা চ্যাং-চুব বা বানচুর বিনয়ধরকে বলিলেন—“তুমি পূর্ব্বে ভারতবর্ষে বাস করিয়াছ। সে দেশের উষ্ণ জলবায়ুর সহিত তুমি পরিচিত, অতএব তুমিই দীপঙ্করকে তিব্বতে আনয়ন করিবার জন্য গমন কর। যদি তিনি একান্তই না আসেন তবে তাঁহার পরবর্ত্তী যিনি শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া আসিও।”

 বিনয়ধর পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নির্জ্জনে মঠে বসিয়া ধর্ম্মশাস্ত্র পাঠ করা এবং ধ্যান-ধারণার ভিতর দিয়া জীবন অতিবাহিত করাই শ্রেয়ঃ জ্ঞান করিয়াছিলেন, কাজেই তাঁহার ইচ্ছা ছিল না যে ভারতবর্ষে আসেন। কিন্তু নৃপতি চ্যাং-চুব বিশেষ ভাবে অনুজ্ঞা দেওয়ায় তিনি রাজাদেশ পালন করিতে বাধ্য

১২