বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা

পারেন নাই তখন আমাদের এইরূপ চেষ্টা করা সম্পূর্ণ যুক্তিবিরুদ্ধ।”

 বিহারের শ্রমণগণ অশ্রুপূর্ণ-লোচনে অতীশ ও তাঁহার সঙ্গিগণকে পর্ব্বতে আরোহণ করিতে দেখিলেন।

 অতীশ এবং তাঁহার সঙ্গিগণ ভারতের সীমান্ত প্রদেশ অতিক্রম করিয়া তীর্থিকদের গন্তব্যস্থল অতি পবিত্র একটি বিহারে আসিয়া পৌঁছিলেন। সেস্থানে অতীশের মতাবলম্বী পঞ্চদশজন বৌদ্ধাচার্য্য বাস করিতেছিলেন। এই আশ্রমের আচার্য্যগণ তাঁহার সহিত পরিচিত হইয়া আপনাদিগকে ধন্য মনে করিলেন। সারাদিন অতীশের সহিত তাঁহারা ধর্ম্মালোচনা করিলেন। অতীশ তাঁহাদিগকে এইরূপ সরলভাবে বৌদ্ধধর্ম্মের নিগূঢ় তত্ত্ব সমুদয় বুঝাইয়া দিলেন যে সেই আশ্রমবাসী শ্রমণগণ অতীশের পাণ্ডিত্য ও অমায়িক ব্যবহারে একান্ত প্রীত হইয়া প্রত্যেকে তাঁহাকে একটি ছত্র উপহার দিলেন। তাঁহারা অতীশের সহিত একান্ত অনুগতের মত ব্যবহার করিয়াছিলেন।

 এই স্থান পরিত্যাগ করিয়া তাঁহারা ক্রমশঃ পার্ব্বত্য-পথে চলিতে লাগিলেন। এই পথে অনেক তীর্থিকেরাও তাঁহাদের সঙ্গী ছিল। তীর্থিকদলের মধ্যে শৈব, বৈষ্ণব, কপিলাশ প্রভৃতি নানা সম্প্রদায়ের লোক ছিল, তাহারা বৌদ্ধধর্ম্ম-বিদ্বেষী ছিল। ইহারা তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম্মের প্রচার ও সংস্কারের পক্ষপাতী

২১