হিমালয়-অভিযান
ছিল না। এই তীর্থিকদলের মধ্যে কেহ কেহ অতীশকে হত্যা করিতে উদ্যোগী হইয়াছিল। একবার তাহারা আঠারো জন দুর্দ্দান্ত দস্যুকে এই কার্য্যে প্ররোচিত করে, কিন্তু সেই দস্যুগণ অতীশের সৌম্য, শান্ত ও জ্যোতিষ্মান্ মুখশ্রী দেখিয়া এমনভাবে অভিভূত হইয়া পড়িল যে, তাহাদের হাতের অস্ত্র হাতেই রহিয়া গেল—প্রস্তর মূর্ত্তির মত সকলে নির্ব্বাক্ হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। অতীশ কিছুদূর অগ্রসর হইয়া বলিলেন—‘আমার এই হতভাগ্য দস্যুদের জন্য দুঃখ হইতেছে!’ এইরূপ বলিয়া তিনি মাটির উপর কয়েকটি মুর্ত্তি অঙ্কিত করিয়া যেমন মন্ত্রোচ্চারণ করিলেন অমনি নির্ব্বাক্ ও অচল দস্যুদল আবার বাক্শক্তি লাভ করিল এবং চলিতে সক্ষম হইল।
একদিন পথিমধ্যে এক স্থানে অতীশ দেখিতে পাইলেন, তিনটি কুকুরের বাচ্চা শীতে জড়সড় হইয়া কষ্ট পাইতেছে। কেহ তাহাদের দিকে ফিরিয়াও তাকাইতেছে না। অতীশ কুকুরের বাচ্চা তিনটিকে তুলিয়া তাঁহার গাত্রাবরণের মধ্যে লইলেন এবং বলিলেন—‘আহা! বাছারা, তোমরা বড় কষ্ট পাইতেছ!’ এই কথা বলিয়া তিনি পুনরায় পথ চলিতে আরম্ভ করিলেন। এমনি ছিল তাঁহার দয়া ও মহত্ত্ব।
এ স্থানের রাজা (জমিদার) এই যাত্রীদলের প্রতি অত্যন্ত দুর্ব্ব্যবহার করিয়াছিলেন। অতীশের সহিত চন্দন কাষ্ঠের
২২