বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা

নির্ম্মিত একটি ছোট টেবল্ (table) ছিল। রাজা দীপঙ্করের নিকট সেই টেবলটি অভদ্রভাবে দাবী করিলেন। অতীশ বলিলেন: “আমি তিব্বতের রাজাকে উপহার দিবার জন্য এই টেবলটি লইয়া যাইতেছি। আমি ইহা কোন প্রকারেই হস্তান্তরিত করিতে পারিব না। রাজা ইহাতে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইলেন এবং তাঁহাকে বিপন্ন করিবার জন্য পথে এক দস্যুদলকে পাঠাইয়া দিলেন, যেন তাহারা পরদিন প্রত্যূষে অতীশ ও তাঁহার সঙ্গিগণ যেমন এ পথ দিয়া যাইবেন, সে সময়ে তাঁহাদিগকে আক্রমণ করিয়া সমুদয় দ্রব্যাদি লুণ্ঠন করে এবং তাঁহাদের প্রাণনাশ করে।

 পরদিন প্রত্যূষে রাজা যেমন যাত্রীদলের নিকট হইতে বিদায় লইয়া গেলেন, তখন দীপঙ্কর তাঁহার সঙ্গিগণকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন—“তোমরা সতর্ক থাকিবে। আজ পথে পাহাড়িয়া দস্যুরা আসিয়া আমাদিগকে আক্রমণ করিবে।” তাহাই হইল,—কিন্তু অতীশের মন্ত্র-প্রভাবে তাহাবা নির্ব্বাক্‌ভাবে যন্ত্রচালিত পুতুলের ন্যায় চলিয়া গেল।

 এইবার তাঁহারা নেপালের নিকটে আসিয়া পৌঁছিলেন। দূর হইতে পুণ্য পীঠস্থানের আর্য্য স্বয়ম্ভুর মন্দির দেখিয়া তাঁহাদের মন ও প্রাণ আনন্দে উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিল। তাঁহারা সকলে একটি শাখা-প্রশাখা-বিশিষ্ট শ্যামল-পত্ররাজি-শোভিত বিরাট বৃক্ষের নীচে শিবির সন্নিবেশ করিলেন। এইখানে ভারবাহী

২৩