হিমালয়-অভিযান
জন্তুর পৃষ্ঠ হইতে মালপত্র নামানো হইল। আর্য্য-স্বয়ম্ভুরমন্দির দর্শনে দীপঙ্করের প্রাণ এতদূর আনন্দে বিভোর হইয়াছিল যে তিনি অপলকনেত্রে সেইদিকে তাকাইয়াছিলেন। অতীশ বৃক্ষের শীতল ছায়ায় উপবেশন করিলেন। তাঁহার দক্ষিণ দিকে গ্যায়ৎসো এবং বাম দিকে বসিয়াছিলেন তাঁহার ভ্রাতা বিজয়চন্দ্র। আর মধ্যস্থলে একটি উচ্চ আসনে বসিয়াছিলেন রাজসন্ন্যাসী মহারাজা ভূমিসঙ্ঘ। এই ভূমিসঙ্ঘ অতীশের প্রিয়তম শিষ্য।
এস্থানের নৃপতি অতীশকে সদলবলে রাজসম্মানে অভ্যর্থনা করিলেন। তাঁহার ও তদীয় সঙ্গিগণের সর্ব্ববিধ সুব্যবস্থার জন্য রাজকর্ম্মচারীদিগের উপর ভার দিলেন। মগধের শ্রেষ্ঠ আচার্য্যকে নৃপতি অনন্তকীর্ত্তি অনেকদূর হইতেই পরম সমাদরে অভ্যর্থনা করিয়া রাজপ্রাসাদে আনিয়া তাঁহার থাকিবার সর্ব্ববিধ সুব্যবস্থা করিলেন। তিনি নিজে সম্মুখে উপবেশন করিয়া আচার্য্য অতীশের উপদেশাবলী শ্রবণ করিয়া আপনাকে ধন্য মনে করিতে লাগিলেন।
এই স্থানে গ্যায়ৎসো কঠিন রোগে আক্রান্ত হইলেন। গ্যায়ৎসোকে আরোগ্য করিবার সমুদয় চেষ্টাই ব্যর্থ হইল। একদিন গভীর রাত্রিতে গ্যায়ৎসোর মৃত্যু হইল। অতীশের অনুচরগণ অতিগোপনে রাত্রিকালেই নদীর তীরে লইয়া যাইয়া তাঁহার দেহের সৎকার করিল। পরদিন প্রত্যূষে যাত্রাকালে গ্যায়ৎসোর পরিত্যক্ত
২৪