হিমালয়-অভিযান
ছিল, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্বেতপতাকা এবং কুড়িটি শ্বেত সাটিনের ছত্র। ইঁহারা বিবিধ বাদ্যযন্ত্র সহযোগে চারিদিক নিনাদিত করিয়া—“ওঁ মণিপদ্মে হুম” এই পবিত্র মন্ত্র গান করিতে করিতে মগধের বিখ্যাত আচার্য্য দীপঙ্করকে রাজা চ্যাং-চুবের নামে আসিয়া প্রণতি পূর্ব্বক সাদর অভিনন্দন জ্ঞাপন করিলেন। সেদিনকার সেই অভিনন্দন, তিব্বতীয়দের ভক্তি-প্রণত ভাব অতীশের চিত্তকে বিশেষরূপে মুগ্ধ করিয়াছিল। তাঁহার হৃদয় তখন আনন্দে অভিষিক্ত হইয়াছিল এবং তাঁহার এই তিব্বত আগমন যে এইভাবে সার্থক হইতে চলিয়াছে তাহা হৃদয়ঙ্গম করিয়া তিনি পুলকিত হইয়াছিলেন। তিব্বতের গুজে নামক স্থানেই তাঁহাকে এইরূপ অভ্যর্থনা করা হইয়াছিল।
এই গুজেতেই অতীশ সর্ব্বপ্রথম চা পান করেন। তিনি গুজেতে আসিয়া পৌঁছিলে পর এবং বিশ্রামাদি করিবার সময়ে গুজের অভিনন্দনকারীগণ তাঁহার নিকট তিব্বতীয় রীতিতে চা প্রস্তুত করিয়া উপস্থিত করিলেন এবং বলিলেন—“মহাত্মন্! আপনি যদি অনুমতি করেন তবে আপনাকে আমাদের দেশের এই স্বর্গীয় পানীয় পান করিবার জন্য অনুরোধ করিতেছি। অতীশ বলিলেন,—“এই পানীয়ের কি নাম? তোমরা যার এত সুখ্যাতি করিতেছ?” তিব্বতীয়েরা বলিলেন,—“মহাত্মন্! ইহার নাম চা। এই গাছের ছাল খাইতে নাই, কিন্তু ইহার
২৬