বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা

পাতা চূর্ণ করিয়া উষ্ণ জলে ভিজাইয়া পান করিতে হয়। এই পানীয়ের অনেক কিছু গুণ রহিয়াছে।” অতীশ তাহাদের কথা শুনিয়া বলিলেন—“এমন উত্তম পানীয় নিশ্চয়ই তিব্বতীয় ভক্ত শ্রমণগণের প্রার্থনার ফলে বিধাতা দান করিয়াছেন। আমি ইহা পান করিয়া তৃপ্তি লাভ করিলাম।”

 গুজে হইতে এই যাত্রীদল একে একে নানাস্থান অতিক্রম করিয়া [ডোক্] নামক স্থানে আসিলেন। এই স্থানটী মানসসরোবর নামক হ্রদের অল্প দূরে অবস্থিত। এই স্থানে দলে দলে গ্রামবাসিগণ আসিয়া অতীশকে বিবিধ উপহার দিয়া পরিতুষ্ট করিতে লাগিল। ডোক্ নামক স্থানে প্রাতর্ভোজন ইত্যাদি সমাপন করিয়া তাঁহারা মানসসরোবরের তীরে আসিয়া পৌঁছিলেন। মানস সরোবরের নির্ম্মল নীলাভ সলিলরাশি এবং চারিদিকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখিয়া দীপঙ্কর এতদূর মুগ্ধ হইয়াছিলেন যে তিনি এই স্থানে এক সপ্তাহকাল অবস্থান করেন। এই স্থানের সৌন্দর্য্য তাঁহার চিত্তশতদল নবারুণদীপ্তিতে বিকশিত করিয়া তুলিয়াছিল। অতীশ যখন মানসসরোবরের তীরে বাস করিতেছিলেন, ঠিক সেই সময়ে নাগ-ছোও এখানে আসিয়া তাঁহার সহিত মিলিত হইলেন। অতীশ একদিন যখন মানস সরোবরের পবিত্র জলের মধ্যে দণ্ডায়মান হইয়া পিতৃ-পুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণ করিতেছিলেন, সে সময়ে

২৭