বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

নাগ-ছো জিজ্ঞাসা করিলেন—“আপনি জলে দাঁড়াইয়া কি করিতেছেন?” অতীশ বলিলেন,—“আমি পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করিতেছি, ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিব প্রভৃতি দেবতার উদ্দেশ্যে স্তুতি জানাইয়া পিতৃ-পুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করিতেছি। কেন তোমাদের তিব্বতীয়দের মধ্যে কি তর্পণের রীতি প্রচলিত নাই?” নাগ-ছো কহিল—“হাঁ আমাদের দেশে মঞ্জুশ্রী দেবী এবং অন্যান্য দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে অর্চ্চনা করিবার মন্ত্র রহিয়াছে।” অতীশ নাগ-ছোকে তর্পণের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বিবিধ উপদেশ প্রদান করিলেন।

 অতীশ মানস-সরোবরের তীর পর্য্যন্ত আসিয়া পৌঁছিয়াছেন, ইতিমধ্যেই এই সংবাদ দিকে দিকে প্রচারিত হইয়াছিল। মানস সরোবরের তীরবর্ত্তী তিনটি প্রদেশ হইতে দলে দলে লোক তাঁহাকে দর্শন করিবার জন্য আসিতে লাগিল। তিব্বতের ধর্ম্মবিপ্লবের ও অবনতির যুগে ভারতীয় শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতের আগমন তাহাদের নিকট এক নূতন উৎসাহ ও আনন্দের প্রেরণা আনিয়া দিয়াছিল।

 এ সময়ে অতীশকে রাজধানীতে লইয়া যাইবার জন্য ৩০০ শত অশ্বারোহী আসিয়া উপস্থিত হইল। ইহারা সকলেই শ্বেত-পরিচ্ছদ পরিহিত ছিল। তিন শতাব্দী পূর্ব্বে আচার্য্য শান্তিরক্ষিতকে যেমন তিব্বতীয়েরা অভ্যর্থিত করিয়া লইয়া

২৮