বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান-অতীশের তিব্বত-যাত্রা

গিয়াছিলেন—অতীশকেও তেমনি শ্রদ্ধা ও প্রীতির সহিত পরম ভক্তি-সহকারে আজ আবার রাজার অনুচরবর্গ অভ্যর্থনা করিতে লাগিলেন। তাঁহারা অতীশকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন,—“হে পরম প্রবীণ, ভারতীয় শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, দেবতা যেমন ভক্তের প্রার্থনায় ভক্তের বাঞ্ছা পূর্ণ করিবার জন্য আসিয়া দর্শন দেন, তেমনি হে মহাপ্রাণ মহাপুরুষ, আপনি তিব্বতীয়গণের সনির্ব্বন্ধ অনুরোধে দয়া করিয়া তিব্বতে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন। আপনি ‘চিন্তামণি’,—আপনি পরশমণি, যাহার স্পর্শে লৌহও স্বর্ণ হয়, যাহার নিকট প্রার্থনা করিলে কোন কিছুই অপূর্ণ থাকে না! তেমনি জানি আপনি আমাদের প্রার্থনা পূর্ণ করিবার জন্যই এখানে আসিয়াছেন। আমরা জানি, আমাদের এই দেশ ধর্ম্ম সম্বন্ধে হীন—যে ধর্ম্ম-গৌরবে ভারত গরীয়ান্, সে ধর্ম্ম গৌরব আমাদের নাই তবু আমাদের দেশের প্রতি বিশ্বপ্রকৃতির অশেষ রূপ করুণা-ধারা বর্ষিত হইয়াছে। আমাদের দেশে সূর্য্যের প্রখর প্রতাপ নাই, আমাদের দেশ শীতল ও শান্তিপ্রদ। আমাদের দেশে নীল-সলিলপূর্ণ হ্রদ এবং নির্ঝরিণী রহিয়াছে অসংখ্য। তিব্বতের জলবায়ু মানুষকে সজীব করিয়া তোলে। তিব্বতের পার্ব্বত্য প্রদেশ পর্ব্বতান্তরালে অবস্থিত বলিয়া শীতের প্রখরতা সেখানে উপলব্ধি হয় না। সেখানকার উষ্ণতা শরীর ও মনকে কর্ম্মঠ এবং উৎসাহী করিয়া থাকে।

২৯