বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান-অতীশের তিব্বত-যাত্রা

আমরাও দীর্ঘ জীবন লাভ করিয়া আপনার মহিমাগীতিতে ধন্য হইব।”

 এইবার অতীশ রক্ষীদল-পরিবেষ্টিত হইয়া চ্যাং-চুবের রাজধানী থোলিং নগরের দিকে অগ্রসর হইলেন। তাহারা ‘লো আ, লোমা, লোলা লোলা’ ইত্যাদি গীতরবে চারিদিক মুখরিত করিতে করিতে চলিল।

 অতীশের বয়স প্রায় ষাট বৎসর হইলেও তাঁহার শারীরিক সৌন্দর্য্য, মধুর হাস্যময় মুখমণ্ডল, স্নেহপূর্ণ ব্যবহার সঙ্গিগণকে প্রীতিমুগ্ধ করিয়াছিল। এই দেব-প্রকৃতির ভারতীয় পণ্ডিতকে দেখিয়া তিব্বতীয় অনুচরবৃন্দ পরম প্রীতি ও আনন্দ লাভ করিয়াছিলেন। তাঁহার সহাস্য মুখমণ্ডল হইতে সংস্কৃত শ্লোকের আবৃত্তি বড় মধুর শুনাইত। তিনি চলিবার সঙ্গে সঙ্গে সর্ব্বদা বিবিধ মন্ত্র উচ্চারণ করিতে করিতে চলিতেন। এই যে অজ্ঞাত দুর্গম গিরিপথে চলিতেছেন, বৃদ্ধ বয়সে বিবিধ ক্লেশ সহ্য করিতেছেন তবু সকলের সঙ্গে সুমিষ্টভাবে কথাবার্ত্তা বলিতেছেন,—“অতি ভালো! অতি ভালো! অতি ভালো! অতি মঙ্গল! অতি ভালো হে! মহাকরুণিকা তারা! শাক্যমুনি দেখ!” এই কয়েকটি কথা প্রতি নিয়ত তাঁহার মুখ হইতে উচ্চারিত হইতেছিল।

 চ্যাং-চুবের প্রেরিত লোকজনের প্রতি প্রশংসমান দৃষ্টিতে চাহিয়া অতীশ বলিতেছিলেন—“এই রাজকর্ম্মচারিগণ আনন্দে

৩১