বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্র৷

আমাদিগকে ধন্য করিয়াছেন। আপনি দারুণ পথ-ক্লেশ সহ্য করিয়াও যে আমাদিগকে মুক্তি-পথের সন্ধান দেখাইতে আসিয়াছেন, সেজন্য আমাদের কৃতজ্ঞতাপূর্ণ সাদর অভিনন্দন গ্রহণ করুন।” মন্ত্রী এই কথা বলিয়া একটি চিত্র-পট (Tapestry) উপহার দিলেন। ঐ পটে অবলোকিতেশ্বর দেবের মূর্ত্তি অঙ্কিত ছিল। এই পটটি প্রায় চল্লিশ হস্ত পরিমিত দীর্ঘ ছিল। এবং উহা অতি সুন্দরভাবে স্বর্ণ সূত্র দ্বারা কারুকার্য্যখচিত ছিল।

 রাজা চ্যাং-চুবের নিকট, দীপঙ্কর তিব্বতে আসিয়া পৌঁছিয়াছেন এই সংবাদ যাওয়া মাত্র ন্যাহারি নামক স্থানের লোকেরা দলে দলে তাঁহাকে দেখিতে আসিতে লাগিল। এই ভারতীয় পণ্ডিত তিব্বতীয়গণের একমাত্র আলোচনার বিষয় হইয়া দাঁড়াইলেন। প্রত্যেক গ্রামবাসী, প্রত্যেক নাগরিকের মুখেই এই মহাপণ্ডিতের কথা শুনা যাইতে লাগিল। উচ্চ, নীচ এবং সাধারণ জনগণেরও তাঁহার মুখে ম্যা-ফ্যাম্‌ বা মানস সরোবরের বিষয় অবগত হইবার জন্য আগ্রহ দেখা গেল। রাজা যে মহামানবকে তিব্বতে আনয়ন করিবার জন্য এত অর্থব্যয় করিলেন, যাঁহাকে আনিবার চেষ্টায় বহু লোকের অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হইতে হইয়াছে, না জানি সেই শ্রেষ্ঠ ভারতীয় পণ্ডিত কিরূপ দেখিতে, কিরূপ তাঁহার পাণ্ডিত্য, কিরূপ তাঁহার বাক্য ও উপদেশ। এইরূপ ব্যগ্রভাব যে জনসাধারণের

৩৩