বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

পক্ষে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, সে-কথা সহজেই বুঝিতে পারা যায়। রাজা চ্যাং-চুব ও তাঁহার কর্ম্মচারীদের প্রমুখাৎ দীপঙ্করের সম্বন্ধে নানা বিষয়ে জানিবার জন্য কৌতূহলি হইয়াছিলেন।

 রাজা চ্যাং-চুব যখন ব্যগ্রভাবে দীপঙ্করের বিষয় জানিবার জন্য উৎসুক হইয়াছিলেন, ঠিক্ সেই সময়ে তাঁহার মন্ত্রী লা-লোদাই দশজন অশ্বারোহী শরীররক্ষীসহ নৃপতিসকাশে আসিয়া উপনীত হইলেন এবং বলিলেন, “মহারাজ! যে মুহূর্ত্তে বহু শাস্ত্র-বিশারদ পণ্ডিত দীপঙ্কর নেপালের পাল্‌পা নামক স্থানে আসিয়া পৌছিয়াছিলেন, সে সময়ে নেপালের মহারাজা অতি বিপুলভাবে তাঁহাকে সম্বর্দ্ধনা করেন, এমন কি তাঁহার পুত্র পর্য্যন্ত অতীশের নিকট দীক্ষিত হইয়া ‘দেবেন্দ্র’ নামে অভিহিত হইয়াছেন। অতীশের সহিত সমগ্র পশ্চিম ভারতের একজন রাজ-শ্রমণও আসিয়াছেন, তাঁহার নাম ভূমিসঙ্ঘ। ভূমিসঙ্ঘ নানা গুণে গুণান্বিত, সসাগরা ধরণীর মহারাজচক্রবর্ত্তী সম্রাট হইবার যোগ্য। ধর্ম্মের জন্য পৃথিবীর সমুদয় বিলাস-সুখ ও ধনৈশ্বর্য্যের মায়া পরিত্যাগ করিয়া, তিনি জ্ঞানী মহাপুরুষ দীপঙ্করের নিকট দীক্ষা লাভ করিয়া শ্রমণ-ব্রত গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি অতীশের একান্ত অনুগত বলিয়াই আমাদের তিব্বতে আগমন করিয়াছেন। মানস সরোবরের তীর পর্য্যন্ত প্রায় ৪২৫ জন নেপাল-রাজ-অনুচর দীপঙ্করের অনুগামী হইয়াছিলেন। সেখানে

৩৪