দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা
হাজার হাজার কৃষকও রাখালেরা আসিয়া মহামতি দীপঙ্করকে বন্দনা করিয়া গিয়াছে এবং তাঁহাকে দর্শন করিয়া ধন্য হইয়াছে।”
মন্ত্রীর মুখে দীপঙ্কর তাঁহার যাত্রা-পথে যে সর্ব্বত্র বিশেষভাবে সম্মানিত হইয়াছেন এমন কি নেপাল-রাজও যে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রদর্শন করিয়াছেন ইহাতে নৃপতি অত্যন্ত প্রীতিলাভ করিলেন। দীপঙ্কর যখন থোলিং রাজদরবারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন, তখন স্বয়ং নৃপতি এবং রাজদরবারের সকলে দণ্ডায়মান হইয়া অতীশকে অভ্যর্থনা করিলেন। কিন্তু একজন বৃদ্ধ লামা দীপঙ্করকে দণ্ডায়মান হইয়া অভ্যর্থনা করিলেন না, সম্ভবতঃ বার্দ্ধক্যের দরুনই তিনি দণ্ডায়মান হইতে পারেন নাই। এই বৃদ্ধ লামার নাম ছিল, রিন্-চেন্-জং-পো। রিন্-চেন্-জং-পোর প্রতি এক সময়ে রাজা কর্ত্তৃক তিব্বতের পুরাণ এবং রং প্রদেশের উপর ধর্ম্মনেতৃত্ব ভার প্রদত্ত হইয়াছিল। রিন্-চেন্-জংপো তিব্বতের ঐ সকল প্রদেশে অনেক মঠ, মূর্ত্তি ও বিদ্যাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন এবং বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তাঁহার শিষ্যগণ মধ্যে দশজন সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন হইয়াছিল। এবং তাহারা “লোচবা” বা দ্বিভাষী নামে পরিচিত ছিল। রিন্-চেন্-জংপো সংস্কৃত ও তিব্বতীয় ভাষায় একখানি অভিধান প্রণয়ন করিয়াছিলেন। তাঁহার প্রতিষ্ঠাপিত তান্ত্রিক ধর্ম্মাচার
৩৫