বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

তিব্বতে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। গল্প আছে যে একবার রিন্-চেন্-জংপো একটা দুরন্ত দৈত্যকে দমন করিয়াছিলেন।

 দীপঙ্করের সহিত রিন্-চেন্-জংপোর যখন প্রথম সাক্ষাৎ হইল তখন তাঁহার বয়স ছিল ৮৫ বৎসর। দীপঙ্কর তাঁহার বয়ঃকনিষ্ঠ, এজন্য রিন্-চেন্-জংপো ভারতীয় পণ্ডিতকে দণ্ডায়মান হইয়া অভ্যর্থনা করিলেন না, কিন্তু পরে দীপঙ্করের মুখে পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিবিধ দেবতাগণের স্তোত্র প্রভৃতি শুনিয়া তিনি একান্ত মুগ্ধ হইলেন। সর্ব্বোপরি দীপঙ্করের তাঁহার প্রতি বিনয়-পূর্ণ ব্যবহার তাঁহাকে একান্ত মুগ্ধ করিল। অবশেষে বৃদ্ধ রিন্-চেন্ং-জংপোও বিনীতভাবে দীপঙ্করের নিকট দণ্ডায়মান হইয়া সম্মান প্রদর্শন করিলেন। বৃদ্ধ রিন্-চেন্-জংপো ৯৫ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন।

 এই ভাবে তিব্বত-রাজ দীপঙ্করকে পরম সমাদরের সহিত আপনার দেশে অভ্যর্থনা করিয়া লইলেন। রাজা, প্রজাদের প্রতি এইরূপ অনুজ্ঞা প্রচার করিলেন যে: “তাহাদের দীপঙ্করের আদেশ ও উপদেশ অনুযায়ী ধর্ম্মপথে পরিচালিত হইতে হইবে।” ভারতীয় পণ্ডিতগণের মধ্যে দীপঙ্কর যে অতি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তাহা তিনি সহজেই বুঝতে পারিলেন। রাজা দীপঙ্করের বিদ্যাবত্তা ও বিবিধ গুণ দেখিয়া তাঁহাকে জো-বো-জে অর্থাৎ প্রভুস্বামী বা স্বামী ভট্টারক উপাধি প্রদান করিলেন।

৩৬