দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশের তিব্বত-যাত্রা
দীপঙ্কর থোলিং উপনীত হইয়া তিব্বতে মহাযান মত প্রচার করিলেন। এবং তাঁহার প্রস্তাবিত মত সম্বন্ধে বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়া প্রকাশ করিলেন। তিনি ক্রমশঃ তিব্বতের ধর্ম্ম-সংস্কারে প্রবৃত্ত হইয়া অল্প সময়ের মধ্যেই তাহার সংস্কার করিতে সমর্থ হইলেন। অতীশের চেষ্টা ও যত্নে তিব্বতের লুপ্তপ্রায় বৌদ্ধধর্ম্মের গরিমা পুনরায় ফিরিয়া আসিল।
দীপঙ্করের উপদেশানুসারে চলিয়া তিব্বতীয় লামারা বৌদ্ধধর্ম্মের প্রকৃত মর্ম্ম কি তাহা হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। অতীশ প্রায় বারো বৎসর কাল তিব্বতে বাস করেন, এই সময়ের মধ্যে তিনি তিব্বতের বিভিন্ন প্রদেশে পর্য্যটন করিয়া বৌদ্ধধর্ম্মের পবিত্রতা এবং প্রকৃত ধর্ম্মতত্ত্ব জনগণ মধ্যে প্রচারিত করিয়াছিলেন। তাঁহার উপদেশ, ধর্ম্ম-জীবন, গ্রন্থ প্রণয়ন ইত্যাদি এবং অমানুষিক কঠোর পরিশ্রমের কাজ দেখিয়া তিব্বতবাসী তাঁহাকে দেবতার ন্যায় শ্রদ্ধা ও ভক্তি করিতে আরম্ভ করিয়াছিল। দীপঙ্কর কিভাবে তিব্বতবাসীদিগের মধ্যে ধর্ম্ম প্রচার করিয়া নৈতিক উন্নতি ও মঙ্গল বিধান করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন, সে কথা সর্ব্বজনবিদিত।
লাশার নিকটবর্ত্তী ন্যাথাং নামক স্থানে ১০৫৩ খ্রীঃ অঃ ৭২ বা ৭৩ বৎসর বয়সে তাঁহার মৃত্যু হয়। এই গ্রামটি নেতাং নামে পরিচিত। কেহ কেহ এই স্থানের নাম নের্তাম্ বলেন। চীনারা
৩৭