বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

 দেড় হাজার বৎসরেরও আগে, অনুমান ৩১৮ খ্রীষ্টাব্দে, চীনদেশে হিয়ান্-ইউ নামে এক সম্রাট ছিলেন। তিনি বৌদ্ধধর্ম্মের একজন পরম উৎসাহী পরিপোষক ছিলেন। তাঁহার রাজত্বকালে প্রজাদের মধ্যে দশ ভাগের নয় ভাগ লোকই শাক্য মুনির মহদ্ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল। চীনাদের বৌদ্ধধর্ম্ম গ্রহণ এবং চীন-সম্রাট এই ধর্ম্মকে রাজধর্ম্মরূপে গ্রহণ করায় চীনারা বুদ্ধদেবের দেশ এই ভারতবর্ষে আসিয়া বৌদ্ধধর্ম্মশাস্ত্র পড়িবার জন্য অতিমাত্রায় ব্যাকুল হইয়া পড়িল। সে সময়ের চৈনিক পর্য্যটকেরা মধ্য এসিয়ার পথে পারস্যদেশ অতিক্রম করিয়া ভারতে আসিতেন। সম্রাট হিয়ান-ইউর সময়ে বৌদ্ধধর্ম্ম চীন হইতে পারস্য পর্য্যন্ত প্রচারিত হইয়াছিল।

 ৪০৫ খ্রীষ্টাব্দে চীন-সম্রাট তিব্বতে এক অভিযান প্রেরণ করেন। তিনি সৈন্যাধ্যক্ষের প্রতি এই আদেশ দেন যে “তুমি সেখানে যদি কোন ভারতীয় প্রসিদ্ধ পণ্ডিত দেখিতে পাও তাঁহাকে সঙ্গে আনিবে—কিংবা পাঠাইয়া দিবে।” সে সময়ে কুমারজীব নামে একজন ভারতীয় পণ্ডিত উত্তর তিব্বতের অন্তর্গত খুশী নামক স্থানে থাকিতেন, তাঁহার সহিত শ্রমণ বিমলাক্ষ নামে একজন পণ্ডিত ছিলেন, বিমলাক্ষের চোখ দুইটি ছিল নীল পদ্মের মত নির্ম্মল ও উজ্জ্বল। তাই সেই শ্রমণের নাম হইয়াছিল বিমলাক্ষ।

৪২