বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কুমারজীব

 কুমারজীব ও বিমলাক্ষ চীন সম্রাটের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিয়া ৪০৮ খ্রীষ্টাব্দে চীনদেশে রওয়ানা হইলেন। পথে যে তাঁহাদের কত ভীষণ মরুভূমি উত্তীর্ণ হইতে হইল, সে দুর্গম পথের কল্পনা করাও সহজ নহে। অজানা পথ, জল মিলে না, খাদ্য মিলে না, সঙ্গী নাই, রৌদ্রতপ্ত বালুকার সাগরের যেন সীমা নাই; সেই পথে কুমারজীব চলিয়াছিলেন সঙ্গী বিমলাক্ষকে লইয়া চীনের রাজধানী নান্‌কিনে।

 বিমলাক্ষ এই পথের ক্লেশ সহ্য করিয়া চীনে পৌঁছিলেন বটে, কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তাঁহার মৃত্যু হইল।

 কুমারজীবকে সম্রাট অত্যন্ত সমাদরের সহিত গ্রহণ করিলেন। তাঁহার সুখ-সুবিধার দিকে সর্ব্বদা লক্ষ্য রাখিতেন।

 সম্রাটের আদেশে কুমারজীব ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্ম্ম-গ্রন্থাদির চীন ভাষায় অনুবাদ করেন। অনেকের কাছেই হয়ত আশ্চর্য্য বলিয়া মনে হইবে কিন্তু অতি সত্য কথা ৮০০ জনেরও বেশী ভারতীয় পণ্ডিত এই অনুবাদ কার্য্যে বৌদ্ধ ভিক্ষু কুমারজীবকে সাহায্য করিতেন। সম্রাট নিজে বৌদ্ধশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন বলিয়া ঐ সমুদয় অনুবাদ পড়িতেন ও আলোচনা করিতেন। কুমারজীব সংস্কৃত ও চীন ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন বলিয়া অনুবাদের কার্য্যে অসাধারণ পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেন। তিনি প্রায় ৩০০ শতখানি গ্রন্থের অনুবাদ করিয়াছিলেন। এই

৪৩