বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কুমারজীব

হইয়া সিন্ধুনদের পারে নানাদেশ ও পল্লী অতিক্রম করিয়া উজ্জয়িনী আসেন। সেখান হইতে মগধ আসিয়াছিলেন।

 ভারতবর্ষের প্রধান প্রধান বৌদ্ধ-তীর্থ পর্য্যটন করিয়া এবং বহু পুঁথি সংগ্রহ করিয়া ফাহিয়ান সিংহলে আসেন। সিংহল হইতে ক্যানটন্‌ গমন করিবার সময় সমুদ্রের মধ্যে তিনি ভীষণ ঝড়ে পড়িয়াছিলেন। জাহাজের যাত্রীরা প্রাণভয়ে ভীত হইয়া পড়িয়াছিল। সেই জাহাজের ব্রাহ্মণ-যাত্রীরা ফাহিয়ানকে লক্ষ্য করিয়া যাত্রীদিগকে বলিয়াছিল যে, এই চীনা শ্রমণ জাহাজে উঠার জন্যই এমন ঝড় উঠিয়াছে, অতএব আসুন আমরা এই শ্রমণকে একটি দ্বীপে নামাইয়া দেই,—একজন লোকের জন্য কি আমরা সকলে প্রাণ হারাইব?

 জাহাজে ফাহিয়ানের এক বন্ধু ছিলেন, তিনি বলিলেন—“যদি তোমরা ফাহিয়ানকে নামাইয়া দাও তবে আমাকেও নামাইয়া দিতে হইবে। কিন্তু মনে রাখিবে যদি কোন রকমে চীন দেশে পৌঁছিতে পারি তাহা হইলে সে দেশের রাজার কাছে তোমাদের এই হীন ব্যবহারের কথা বলিব। রাজা বৌদ্ধধর্ম্মের বিশেষ পক্ষপাতী। অতএব আমাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করিবার পূর্ব্বে ভাল ভাবে বিচার করিয়া কাজ করিও।” জাহাজের যাত্রীরা এই কথা বলিবার পর ফাহিয়ানের প্রতি আর ব্রাহ্মণ-যাত্রীরা কোনরূপ বিরুদ্ধ ব্যবহার করিতে সাহসী হয় নাই।

৪৫