বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিং

জায়গাটিতে প্রচুর ঘাস দেখিতে পাইলাম। এখানে তিব্বতের সীমা আরম্ভ হইল। অনেক গ্রামের লোকেরা তাহাদের চমরী গোরুর পাল লইয়া এখানে আসে। অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাস পর্য্যন্ত তাহারা উচ্চ পর্ব্বত শৃঙ্গের উপরে যে বিস্তৃত সমতল ভূমি রহিয়াছে তাহাতে তাহাদের পশু চারণ করিয়া থাকে। ১২ই মে আমরা বোদ্‌না নামে একটী গিরিপথ দিয়া চলিতে লাগিলাম। সারাপথ বরফে ঢাকিয়া গিয়াছিল কোন কোন জায়গায় বরফ ছিল প্রায় তিন ফিট গভীর। আমরা লান্‌ট নামক গ্রামে আসিয়া আশ্রয় লইলাম! এখানে একজাতীয় চীর গাছ হয় তাহা হইতে বেশ উৎকৃষ্ট জ্বালানী কাঠ পাওয়া যার—ঘাসও জন্মে প্রচুর পরিমাণে।

 ১৩ই মে। আমরা রিন্‌চেন্‌গ্যাং নামক একটা পার্ব্বত্য গ্রামে আসিলাম। গ্রামটা বেশ বড় প্রায় ত্রিশখানি বাড়ী আছে। এখানে একটি গোম্‌-পা বা গুম্ফা দেখিলাম। গোম্‌পাটি গ্রাম হইতে প্রায় ৫০০ ফিট উচ্চে হইবে। এই গোম্‌পার বা মঠের ভিতরে দশ বারোটি প্রকোষ্ঠ ছিল, তাহাতে কয়েকজন লামা বাস করিতেছিলেন। তাঁহারা শুধু ধর্ম্মপুস্তক পড়িয়া এবং মন্ত্র আওড়াইয়াই সময় কাটান। এই গ্রামটির নীচ দিয়া আমো নামক পার্ব্বত্য নদী বহিয়া যাইতেছে। ভূটানের দিক হইতে এই পার্ব্বত্য নদীটি বহিয়া আসিয়াছে এখানে লোকের তেমন বাস

৪৯