বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

আছে। সেই গোম্‌পার নাম—দোংক্যার। ১৮ই মে—আজ আমরা ফারি আসিলাম।

 ফারিতে একটী ছোট দুর্গ আছে। পাহাড়টী অন্যান্য পাহাড় হইতে বিচ্ছিন্ন। একটী মাত্র শৃঙ্গ। শৃঙ্গের উচ্চতা ১২০০ ফিটের বেশী হইবে না। দুর্গের নীচে—প্রায় ২০০ ফিট নীচেই বিস্তৃত শ্যামল প্রান্তর। দুর্গের নীচ হইতে উহা চারি মাইল পর্য্যন্ত বিস্তৃত; এ যায়গায় জ্বালানিকাঠ পাওয়া যায় না। একমাত্র গোময়ই জ্বালানিকাঠের পরিবর্ত্তে ব্যবহৃত হয়। এখাকার সমতল ভূমি হইতে এবং পাহাড়ের উপর হইতে তিব্বতীয়দের জেমো-লা-রি নামক পবিত্র গিরিশৃঙ্গ দেখা যায়। জেমো-লা-রি; চুমুলহারি নামে পরিচিত। ঐখানে ত্রিকোণমিতি জরিপ বিভাগের একটি অফিস আছে। এখান হইতে বারো মাইল দূরে চুচান্ নামে উৎস বা প্রস্রবণ অবস্থিত। এই প্রস্রবণের জলের রোগ নিবারণ করিবার শক্তি অসাধারণ বলিয়া খ্যাতি আছে। এখানকার স্থানীয় লোকেরা চিকিৎসকের ধার বড় একটা ধারে না। তাহারা কাহার কোনও পীড়া হইলে এখানকার এই প্রস্রবণের জলে স্নান করিয়া এবং জল পান করিয়াই রোগমুক্ত হয় বলিয়াই বিশ্বাস করে। অতি বড় দুরারোগ্য ব্যাধিও নাকি এই জলে সপ্তাহকাল মাত্র স্নান করিলেই নিরাময় হয়।

৫১