৶৹
আফগানিস্থান ও পামির অভিযানে গমন করিয়া বোখারা (Bokhara) নগরে নিদ্রিত অবস্থায় শত্রুহস্তে নিহত হন।
অনেক দিন পর্য্যন্ত এই সব দুঃসাহসিক অভিযানকারীদের বিষয় জনসাধারণের নিকট প্রচারিত হয় নাই। এমন কি তাঁহাদের নামও প্রকাশিত হইত না। কল্যাণ সিংহ “A. K.” এবং হরিরাম—যিনি এভারেষ্ট অভিযান করেন তিনি “M. H.” নামে পরিচিত হন।
এই সব অভিযানকারীরা তাঁহাদের যাত্রাপথে প্রতি পদক্ষেপের সহিত জমির পরিমাপ করিতেন, দূরবর্ত্তী পর্ব্বতশ্রেণীর দূরত্ব, উচ্চতা, পথ-ঘাট, নদ-নদী, লোকজন, কৃষিক্ষেত্র, হ্রদ, এসব নানা বিষয়ের সন্ধান লইতেন এবং দুর্দ্দান্ত দস্যু-তস্করের হস্ত হইতে ও বিদেশী পর্য্যটক মাত্রেরই প্রতি সন্ধিগ্ধ প্রকৃতির তিব্বতীয় রাজপুরুষদের নিকট তীর্থযাত্রীরূপে আত্ম-গোপন করিয়া চলিতেন। রাত্রিবেলা প্রার্থনাচক্রের (prayer wheel) মধ্যে গোপনে সংগৃহীত তথ্য লিখিয়া লুকাইয়া রাখিতেন। ফাঁপা লাঠির ভিতরে তাঁহাদের Boilingpoint thermometer থাকিত। নোয়েল সাহেব বলেন এই সব দুর্গম যাত্রীদের ভাগ্যে মিলিত...“only a few rupees a month. They were rewarded only when they returned—if they returned!” মাসিক সামান্য কয়েকটি টাকা মাত্র মিলিত শুধু তাঁহাদের ব্যয়ের জন্য আর যদি ফিরিয়া আসিতে পারিতেন তবে তাঁহাদের ভাগ্যে মিলিত যৎকিঞ্চিৎ পারিতোষিক মাত্র! শারীরিক ক্লেশ, অনাহার, দস্যু তস্করের হস্তে নির্য্যাতন ইহাই হইত তাঁহাদের এইরূপ অভিযানের প্রাত্যহিক পুরস্কার।