বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

 এখানে দুইজন জংপো থাকেন। জংপো মানে দুর্গরক্ষক। ইঁহারা লাশা হইতে নিযুক্ত হন। তাঁহাদের কাজ, কর আদায় করা। পণ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও মূল্যের অনুপাতে শতকরা দশ ভাগের এক ভাগ কর আদায় করিবার রীতি আছে! জংপোরা ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয়বিধ বিচার করেন। গঙ্গারামের কঠিন পীড়া হওয়ায় আমাদের এখানে প্রায় তিন মাস কাল থাকিতে হইয়াছিল।

 ১৬ই আগষ্ট—আজ ফারি ছাড়িয়া ছুটিয়া নামক স্থানে আসিলাম। এখান হইতে কয়েকটি ছোট ছোট পাহাড় উত্তীর্ণ হইয়া ১৭ই তারিখে তুনা গ্রামে আসিলাম। গ্রামটি ছোট, মাত্র দশ ঘর লোক এখানে বাস করে। সেখানে রাত্রি কাটাইয়া পরের দিন ১৮ই আগষ্ট কা-লা-সার গ্রামে আসিলাম। বেশ বড় গ্রাম। ষাটখানা বাড়ী। সারা পথে চাষবাসের কোনও চিহ্ন দেখি নাই, এখানে কিন্তু চাষবাস দেখা গেল। তুন গ্রামের ১৮ মাইল রাস্তার ঠিক ডান দিকে রাম বা বাম নামে একটি হ্রদ আছে। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি হইতে এই হ্রদের জল জমিয়া বরফে পরিণত হয়। নভেম্বর মাসে বরফ এমন কঠিন হয় যে জলের কোন গতিই আর থাকে না। ফেব্রুয়ারী মাসে কতক কতক অংশের বরফ গলিয়া যায়। কালাসহরের কাছাকাছি পশ্চিমদিকে আর একটি সুন্দর হ্রদ আছে, হ্রদটির

৫২