বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

 ৩১শে অগষ্ট—আমরা ন্য্যাংকরৎসি নামক গ্রামে আসিলাম। ইহার কাছেই বিখ্যাত পাল্‌তি হ্রদ। আমি এ পর্য্যন্ত পথে কোথাও আর এত বড় হ্রদ দেখি নাই। এই হ্রদটির আকার কতকটা অশ্বখুরের মত। একটি ছোট পর্ব্বতকে ঘিরিয়া এই হ্রদটি শোভা পাইতেছে। পাহাড়ের উপর একটি দেব-মন্দির। মন্দিরটির নাম—দোরজি-ফ্যামো। শুনিলাম পাহাড়ের উপরে বসতি আছে। হ্রদের মধ্যে অনেক মাছ। এই হ্রদের মাছের লাশা সহরে খুব আদর। জমাট বরফের ছিদ্রপথে বর্শি দিয়া এই হ্রদের মাছ ধরিতে হয়!

 ১লা সেপ্টেম্বর—আজ রওয়ানা হইয়া আমরা দুই একটি গ্রামে বিশ্রাম করিয়া কাম্‌পাপরৎসি আসিলাম। পথে কায়রা নামে গিরিপথ উত্তীর্ণ হইতে হইয়াছিল। ৩রা সেপ্টেম্বর—আমরা স্যাম্পো বা ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ তীরে আসিলাম। আমরা চ্যাকসাম গ্রামের কাছাকাছি স্যাম্পো পার হইলাম। প্রস্তরাকীর্ণ দুর্গম পথ। নদীর পার অতি ভয়ঙ্কর। পুলটি অদ্ভুত রকমের। দুই দিকে দুইটি শক্ত ঝুলানো দড়ির সঙ্গে তক্তা বাঁধা। তক্তাগুলি ৩×১ ফুট লম্বা ও চওড়া হইবে। এগুলি লম্বালম্বিভাবে ঝুলানো দড়ির সঙ্গে বাঁধা বলিয়া একসঙ্গে একজনের বেশী লোক চলিতে পারে না। লোহার শিকল দুই দিকেই স্তূপীকৃত শিলা রাশির মধ্যে খুব শক্ত করিয়া প্রোথিত কাষ্ঠদণ্ডের সহিত বাঁধা

৫৫