বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

প্রস্তুত থাকে। স্কুলের উত্তর দিকে পাহাড়ের নীচে রাজার বাড়ী। রাজাকে তিব্বতীয়েরা বলে গিয়ালবো। রাজবাড়ীর উত্তর-পূর্ব্ব দিকে একটি বৃহৎ দুর্গ অবস্থিত। একটী স্বতন্ত্র ও উন্নত পর্ব্বতশিখরের উপর পোটালা বা চাই নামে একটী প্রাসাদ আছে। ঘুরাণো সিঁড়ি বাহিয়া উহার উপরে উঠিতে হয়। এইখানে তীব্বতীয়দের সর্ব্বপ্রধান ধর্ম্মগুরু লামা বা কিয়ামকুংরিংবোচি লামাই হইতেছেন তিব্বতের সর্ব্বে-সর্ব্বা। তাঁহার মৃত্যু নাই। তিনি অমর, কেবল তাঁহার আত্মা এক দেহ ছাড়িয়া অন্য দেই অবলম্বন করে মাত্র। অর্থাৎ তাঁহার মৃত্যু অর্থে কায়া পরিবর্ত্তন। যখন তাঁহার মৃত্যু হয় তখন তাঁহার মৃতদেহ একটা কফিনের ভিতর পুরিয়া কয়েকদিন রাখিয়া তবে সমাধি দেওয়া হয় এবং তাহার উপরে ধাতু-নির্ম্মিত একটা ফাঁপা স্তম্ভ দাঁড় করাইয়া রাখে। ঐ স্তম্ভটী সোনার পাতে মোড়া থাকে। এইরূপ স্তম্ভের নাম কুতাং, দেখিতে যেন একটী ছোটখাট চুরতান্।

 একজন লামার মৃত্যুর ঠিক্ এক বৎসর পরেই নূতন লামার আবির্ভাব হয়। তাঁহার আবির্ভাব, নানা অদ্ভুত অদ্ভুত কাহিনীতে পূর্ণ। যখন কোন পরিবারে বিশেষ লক্ষণযুক্ত নবীন শিশু লামার আবির্ভাব হয়, তখন সে সংবাদ শিশুর পিতামাতা নিকটবর্ত্তী রাজকর্ম্মচারীকে জানাইলে খুব জোর অনুসন্ধান চলে। কর্মচারীদের অনুসন্ধানে যখন সত্য সত্যই শিশুটিকে লামার

৬০