পণ্ডিত কিষণ সিংহ
গুণবিশিষ্ট বলিয়া মনে হয় তখন তাহারা সেই সংবাদ গিয়ালবো বা রাজাকে দেন। গিয়ালবো হইতেছেন লাশার বা তিব্বতের শাসন-সংরক্ষণের কর্ত্তা। তৎক্ষণাৎ মৃত লামার দাস-দাসী ও কর্ম্মচারীরা সেই বাড়ী ছুটিয়া আসেন, নানারূপ পরীক্ষা চলিতে থাকে। তাহাদের পরীক্ষার পর যদি শিশুটি সত্য সত্যই শুভ লক্ষণযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হয়, তখন রাজ্যের প্রধান কর্ম্মচারীরা শিশুর জন্মস্থানে গমন করিয়া তাহাকে ও তাহার পিতামাতাকে সহরের কাছাকাছি একটি গোম্পাতে স্থানান্তরিত করেন। তারপর এক শুভদিনে বিশেষ ধুমধামের সহিত পোটালা দুর্গে আনা হয়। এই শিশু লামা বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে তাহার উপর রাজ্যের ধর্ম্মসংক্রান্ত ও বিবিধ বিচার ব্যবস্থার ভার দেওয়া হয়। যদি একটির অধিক সব-লক্ষণ প্রাপ্ত শিশুর কথা জানিতে পারা যায়, তাহা হইলে তখনই হয় মুস্কিল। সূর্ত্তি খেলিয়া ঠিক্ করিতে হয়।
লাশা সহরের উত্তরে একটি অতি বৃহৎ চুরতান্ আছে। এই চুরতান্টির নাম গিয়াংবুংমোচি। গিয়াংবুংমোচি তিব্বতীয় বীর ছিলেন। তিনি একা (১০০,০০০ একলক্ষ) শত্রু নিধন করিয়া দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করিয়াছিলেন। এই শত্রু হইতেছে চীনারা। তাঁহার বীরত্বের স্মৃতিকে অমর করিয়া রাখিবার জন্য দেশবাসী এই চুরতানটি নির্মাণ করিয়াছেন।
৬১