বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

এই চুরতানের কাছে রাসোচি-ঝিয়ো নামে একটি দেবস্থান আছে।

 বৎসরের প্রথম দিন ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি তিব্বতীয়দের নূতন বৎসর আরম্ভ হয়। তখন খুব উৎসব হইতে থাকে। সে সময়ে তিব্বতীয়েরা বিশ্বাস করেন যে সমুদয় দেবদেবীরা লাশাতে আসেন। তখন মস্ত বড় মেলা বসে। নানাস্থান হইতে লোক আসে। কেহ আসে দেবদর্শনে, কেহ বা আসে শুধু দর্শকরূপে তামাসা দেখিতে। সব দাবা এবং তাহাদের দলপতি লামারা লাশা আসেন। সকলে মিলিয়া দেশকে শত্রুর আক্রমণ হইতে সুরক্ষিত করিবার জন্য দেবতার নিকট প্রার্থনা করেন। ইহাদের আসা যাওয়া এবং খাদ্যাদির ব্যয়ভার রাজসরকার বহন করেন। এ-সময়ে সহরের শাসন-ভার গ্রহণ করে দ্রিফাং গোমপার লামা। তাঁহার ইচ্ছাই আইনে পরিণত হয়। তিনি যেরূপ ইচ্ছা এবং যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি দিতে পারেন। ছোট ছোট অপরাধে গুরুতর শাস্তির বিধান হয়। এজন্য ভয়ে ভয়ে ধনী-বাসিন্দারা সহর ছাড়িয়া গ্রামে চলিয়া যান, পাছে সামান্য অপরাধের দায়ে পড়িয়া ধন, মান সমুদয় হারাইতে হয় এই ভয়ে। সহরের গরীব জনসাধারণ অবশ্য সহরেই থাকে। সাধারণতঃ সহরের লোকেরা নোংরাভাবে বাস করে, কিন্তু এ-সময় নূতন কাপড় পরে, বাড়ী-ঘরে চূণকাম করে, এই ভয়ে পাছে

৬২