বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পণ্ডিত কিষণ সিংহ

 সহরের আর একটি ব্যবস্থা বেশ ভাল। নানা দেশের লোকেরা ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য ওখানে থাকে, কাজেই ঝগড়াবিবাদ, মারামারি, কাটাকাটি যে হইবে তাহাও ত স্বাভাবিক। এইরূপ স্থলে কে বিচার করিবে? প্রত্যেক দেশের লোকদের মধ্য হইতেই একজন সর্দ্দার নিযুক্ত করা হয়, সেই সর্দ্দারই নিজ নিজ দেশীয়দের মধ্যে কোনরূপ গোলমাল হইলে তাহার মীমাংসা করিয়া দেন। সহরের মধ্যে চুরি, ডাকাতি প্রায়ই লাগিয়া আছে। চোরেরা ও ডাকাতেরা চোরাই মাল নেপালী সওদাগরদের সাহায্যে সরাইয়া থাকে।

 অন্যান্য পাহাড়িয়া জাতীয়দের মত তিব্বতীয়দের আচার ব্যবহারও অনেকটা একপ্রকারের। এখানকার বিবাহের ব্যবস্থা ইত্যাদি অদ্ভুত রকমের। এক পরিবারের পাঁচ ভাই হয়ত একটি স্ত্রীলোককেই বিবাহ করিল। এখানে তিন রকমের বিবাহ প্রচলিত।

 তিব্বতে, তিন রকমের ভাষার ব্যবহার আছে। খাম-কাই বা খাম ভাষা, লাশার পূর্ব্বদিকের খামদেশের লোকেরা ব্যবহার করে বলিয়াই ইহার নাম হইয়াছে খাম। বোধ কাই ভাষা,—ই-ৎসঙ্গ দেশের লোকেরা ব্যবহার করে। দোয়াগকাই ভাষা ব্যবহার করে নাগরি, খোরশান্ প্রভৃতি অঞ্চলের অসভ্য যাযাবরেরা। লাশাতে বোধ্‌কাই ভাষারই সমধিক প্রচলন!

৬৫