বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

এই ভাষাই হইতেছে রাজভাষা বা সহুরে ভাষা। এই ভাষাতেই তিব্বতীয় ধর্ম্মগ্রন্থাদি লিখিত হইয়াছে।

 এ-দেশীয় লোকের প্রধান খাদ্য হইতেছে সাত্তু বা ভাজি, ভাত, মাছ, ছাগল ও অন্যান্য প্রাণীর মাংস। লোকে চা খুব বেশী পান করে। চাং নামে একপ্রকার পানীয় ইহাদের মধ্যে অত্যন্ত প্রিয়। বার্লি‌ বা ‘নির’ সঙ্গে নানারূপ মসলা মিশাইয়া এই পানীয় তৈরি করে এবং কয়েক দিন পর্য্যন্ত মাটির বড় বড় জালার ভিতর বদ্ধ করিয়া পরে উহা ব্যবহার করে। ইহা একপ্রকার উত্তেজক পানীয় বিশেষ।

 লাশার জলবায়ু খুব ভাল। কোনরূপ সংক্রামক ব্যাধির কথা ইহারা জানে না। সে প্রায় চল্লিশ বৎসর আগে ১৮৩৮-৩৯ খ্রীষ্টাব্দে একবার লাশাতে বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব হয়, তাহাতে অনেক লোকের মৃত্যু হইয়াছিল। এজন্য এখানকার লোকেরা বসন্ত রোগকে অত্যন্ত ভয়ের চক্ষে দেখে। তাহারা মনে করে এ পীড়ার কোন ঔষধ নাই, ইহার কোন চিকিৎসাও নাই। বসন্ত রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার কথা ইহারা জানে না। যাহারা জানে তাহারাও বিদেশীয়দের কাছে টিকা লইতে অনিচ্ছুক।

 তিব্বতে, গম, (নি) সরিবা (নিকাং) দার্ভ (এক প্রকার শস্য) আলু, মূলা, গাজর প্রভৃতি জন্মে।

৬৬