বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১).pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হিমালয়-অভিযান

কুচকাওয়াজের ময়দান। উহার নাম দ্যাবচি। এখানে প্রতি বৎসর দুইদিন তিব্বতীয় সৈনিকেরা রণ-কৌশল প্রদর্শন করিয়া থাকে। দ্যাবচি হইতে এক মাইল দূরে সেরং-রা-গোম্‌পা নামে একটি মঠ। এখানে প্রায় ৫,৫০০ দ্যাবা বাস করে। ইহাদের সর্ব্ববিধ ব্যয়-ভার লাশার রাজসরকার বহন করেন। এই স্থান হইতে দুই মাইল দূরে আমরা একটি ছোট নদী পার হইলাম। এই নদীটি পেন-পো-গো গিরিপথ হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছে। দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হইয়া নদীটি কিছুতে যাইয়া মিশিয়াছে। ইহার অতি কাছে প্যারিসাগা নামে একটি ছোট গ্রাম। মাত্র পাঁচখানি কুঁড়ে ঘর। আর পেন-পো-গো পাহাড়ের উপর কিচাং গোম্‌পা বা মন্দির।

 এই ভাবে আমরা ছোট ছোট নদী নালা পার হইয়া অবশেষে লিংবুজোঙ্গ নামে একটি ধ্বংসপ্রায় দুর্গের কাছে আসিলাম। সে রাত্রির মত সেখানেই বিশ্রাম করিলাম। এখানকার পথ বেশ ভাল। চার মাইল পর্য্যন্ত পথ ত খুবই ভাল ছিল। তার পরের পথটি ছিল প্রস্তরাকীর্ণ ও বন্ধুর কিন্তু ‘চড়াইতে’ তেমন কোন কষ্ট হয় নাই! এখানে ঘোড়া ও গোরুর খাদ্য ঘাস প্রচুর পরিমাণে মিলিয়াছিল।

 ১৮ই সেপ্টেম্বর। আজ পথ বড় বিশ্রী। খাড়া উঁচু পাহাড়! পথ নাই, কেবল পাথর আর পাথর। অতি কষ্টে দুই মাইল

৬৮