হিমালয়-অভিযান
১৯শে সেপ্টেম্বর। আমরা ডেবুন্সিগা ছাড়িয়া নদীর কিনারায় কিনারায় উত্তরদিকে চলিতে চলিতে একটী গ্রামে আসিলাম। গ্রামটি ছোট। গ্রামে মাত্র পঞ্চাশ ঘর লোক আছে। এ-গ্রাম হইতে তিনপো মাইল দূরে একটি দুর্গ আছে,—দুর্গটির নাম লাংদাবজন্। এখানে দুইজন জঙ্গপো বাস করেন। ইঁহাদের উপর পেস্পোপট্টি হইতে পেনপো-গো পর্য্যন্ত যে গিরিপথ আছে তাহার রক্ষণাবেক্ষণের ভার আছে, আমরা এখান হইতে প্রায় আড়াই মাইল দূরে চা-গিরিপথের নিকট আসিলাম। আসিবার পথে প্রায় আধ মাইল উঁচুতে একটি পার্ব্বত্য নির্ঝরিণী দেখিতে পাইয়া ছিলাম। সেখান হইতে প্রায় তিন মাইল পথ আমাদের চড়াই উঠিতে হয়। এই পথ মোটেই ভাল ছিল না। আমরা অতি ভীষণ চড়াই উত্তীর্ণ হইয়া তবে চা-গিরিপথে আসিয়া পৌঁছিতে পারিয়াছিলাম।
এই পর্ব্বতের উচ্চতা হইবে প্রায় ১৫৮৪০ ফিট। পর্ব্বতশ্রেণী পশ্চিমদিক হইতে আসিয়াছে। এইখানে আমরা কয়েকটি পার্ব্বত্য নদীর সাক্ষাৎ পাইয়াছিলাম। চা হইতে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে আসিয়া তালুংগোম্পা বা মাংতাঙ্গে আসিলাম। এইখানে তিব্বতের প্রসিদ্ধ লামা মারিংবোচি বাস করেন। প্রায় তিনশত লামাও এখানে থাকেন! রাস্তাঘাট প্রস্তরময়!
৭০