পণ্ডিত কিষণ সিংহ
পরিবর্ত্তন হইতেছে, তাহাতে চিত্তকে অপূর্ব্ব সৌন্দর্য্য-সাগরে ডুবাইয়া দেয়। একটা গিরিনদী এই গিরিপথ দিয়া দক্ষিণ দিকে নামিয়া গিয়াছে—তাহার চঞ্চল গতি এবং কোন কোন স্থানে জলপ্রপাতের সৃষ্টি, আমাদের মন আনন্দে অভিভূত করিয়াছিল।
আমরা এখান হইতে দ্যামে চুচাম্ নামক স্থানে আসিলাম। এখানে একটা উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। এখানকার লোকেরা প্রতি বৎসর দুইবার করিয়া এই প্রস্রবণের জলে স্নান করে। এই কুণ্ডটি ২১ ফিট লম্বা এবং দুই ফিট গভীর হইবে—সকল সময়ই উষ্ণ জলে পূর্ণ থাকে; এই কাঁচা কুণ্ডের ভিতর স্নানার্থীরা গলা পর্য্যন্ত ডুবাইয়া রাখে, কপাল দিয়া যখন ঘাম বাহির হইতে থাকে সে সময় তাহারা প্রস্রবণের জল হইতে উঠিয়া আসে এবং একটা মোটা কম্বলে সারা শরীরটা ঢাকিয়া কয়েক মিনিটের জন্য শুইয়া থাকে, তারপর তাহারা একপ্রকার দেশীয় উত্তেজক পানীয় কিংবা কিছু খাবার খায়। এই উষ্ণ প্রস্রবণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মাইল দূরে আরখোরসেন্ নামে এক গ্রামে তিনটী কাঁচা বাড়ী আছে। এ বাড়ী কয়টি পর্য্যটকদের ব্যবহারের জন্য, আর একটী খোরসেনের জন্য। এখানে “খোরসেন” কথাটার অর্থ বুঝাইয়া বলিতেছি। খোর বা খোরলো—খোরীয় শব্দটা ঢাকের মত একটা গোলাকার পদার্থকে বুঝায়। ঐটী কাগজের তৈয়ারী লাল রংএর খুব পাতলা চামড়া দিয়া মোড়া। তাহার গায়ে
৭৫