হিমালয়-অভিযান
তিব্বতীয়দের মন্ত্র লেখা আছে। সেইটী হইতেছে ‘ওঁ মণি পদ্মে হুঁ’—এই অক্ষর কয়টী সোণালী রংএ কিংবা লাল রংএ খুব বড় বড় করিয়া লেখা থাকে। কাগজের বেড়ের গায়েও এই মন্ত্র লিখিত থাকে। ইহার ভিতর দিয়া একটী লৌহ শলাকা ফুড়িয়া দিয়া খাড়া করিয়া রাখা হয় এবং উহার সঙ্গে একটা দড়ি বাঁধিয়া দেওয়া হয় তারপর উহা ঘুরানো হইতে থাকে। ইহাদের বিশ্বাস এই খোর সর্ব্বদা ঘুরানো অবস্থায় রাখিতে পারিলে খুব পুণ্য হয়।
আমরা এই স্থান হইতে খানিকটা উত্তর-পূর্ব্ব দিকে এবং খানিকটা দক্ষিণ-পূর্ব্ব দিকে যাইয়া দ্যাম্ উপত্যকায় আসিলাম। চারিদিকে বড় বড় পাহাড় সব মাথা উঁচু করিয়া আছে আর মধ্যখানে এই সুন্দর উপত্যকাটী অবস্থিত। ইহার দৈর্ঘ্য হইবে প্রায় ১৫ মাইল এবং চওড়াও হইবে প্রায় ৫ মাইল। ছোট একটী নদী নাম তার দ্যাম্, বিশ হাত চওড়া এবং ২ ফিট গভীর, কল্কল্ করিয়া এই উপত্যকার মধ্য দিয়া অশ্রান্ত গতিতে বহিয়া চলিয়াছে। এই নদীটি রোং নদীর একটী শাখা। আমাদের তাঁবুর কাছ হইতে তিন মাইল পশ্চিমে একখানি পাকা বাড়ী আছে। সেই বাড়ীতে চিগের অর্থাৎ দ্যাম্ উপত্যকার শাসনকর্ত্তা লম্বরদার মহাশয় বাস করেন। এখানেও যাযাবরদের প্রায় ২০০ কালো কালো তাঁবু দেখিলাম—ইহারা এখন গোরু, ঘোড়া, চমরু, ছাগল ইত্যাদি চরাইয়া বেড়াইতেছে। ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ ব্যবসায়-
৭৬