পণ্ডিত কিষণ সিংহ
বাণিজ্যও করে। বল্ নামে এক প্রকারের সোডা এবং লবণ ইহারা তেংরীনোর হ্রদের তীর হইতে লইয়া আসে এবং তাহার বদলে লাশা হইতে কাপড় এবং খাদ্য শস্য লইয়া বাড়ী ফিরে। ইহা ছাড়া তাহারা চমরী গোরু, ছাগল, ভেড়া, টাটুঘোড়া, মাখন এই সকলের বিনিময়েও বেশ পয়সা রোজগার করে।
আমাদের সঙ্গে এ-পর্য্যন্ত যে যাযাবরদের দেখা হইল তাহারা সকলেই তিব্বতীয়। দেখিতে খুবই বলিষ্ঠ, যুদ্ধ করিতে ভালবাসে,—ইহারা লাশা রাজসরকারের প্রজা। এই পার্ব্বত্য উপত্যকা পশুর চারণক্ষেত্ররূপে বিশেষ প্রসিদ্ধ। এখানকার যিনি প্রধান লামা তাঁহার তিনশত ঘোটকী আছে। এই ঘোটকীগুলি চীপোন্ নামে আস্তাবলের মালিক বা সহিসের অধীনে প্রতিপালিত হইতেছে। গ্রীষ্মকালে প্রত্যেক দিন ঘোটকীগুলির দুধ দোহান হয়। সেই দুধ হইতে এক প্রকার পানীয় প্রস্তুত হয়—এই উৎকৃষ্ট পানীয় বা মাদক দ্রব্য লামারা ব্যবহার করিতে পারেন। তাহাও সকল লামা পারেন না। একমাত্র প্রধান লামাই পারেন। এখান হইতে দুই দিনের পথ হইবে টেংরীনোর হ্রদ বা নাম হ্রদ। আর সেই হ্রদের তীর হইতে উত্তর দিকে দশ দিনের পথ চলিলে দেখিতে পাওয়া যায় নানা জাতীয় অসভ্য ও বর্ব্বর মানুষদের দেশ (Wild people) এই বন্য মানুষেরা দুর্গম গিরিশৃঙ্গে বাস করে। ইহাদের কাছে যাওয়া বড় নিরাপদ নয় আর সম্ভবপরও নয়
৭৭