পাতা:১৫১৩ সাল.pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৩
১৫১৩ সাল।

হউক কলিকাতায় আসিয়া দেখি হরিশ আমাদের প্রতিদ্বন্দী কোম্পানীর একখণ্ড “অঙ্গীকারপত্ৰ” (articles of association) সংগ্ৰহ করিয়াছে। তাহার নিকট শুনিলাম যে সপ্তাহ খানেক হইল ঐ কোম্পানী গঠিত হইয়াছে। তাহারা এরূপ অসম্ভব প্ৰতিশ্রুতি করিয়াছে যে আমরা তাহা শুনিয়া হাস্যসম্বরণ করিতে পারিলাম না।

 যথাসময়ে রুল শুনানি আরম্ভ হইল। আমাদের কৌঁসিলী অতি বিশদভাবে বুঝাইয়া দিলেন যে প্ৰতিদ্বন্দী কোম্পানী আমাদেরই নক্সাদি চুরি করিয়াছে এবং তাহাদের উদ্দেশ্য আমাদিগের অনিষ্ট করা ভিন্ন আর কিছুই নহে। আমরা বিচারক মহাশয়কে আমাদিগের সুবর্ণ প্ৰস্তুতের উপায় দেখাইয়া দিলাম। তিনি প্ৰতিদ্বন্দী কোম্পানীকে তাহাদিগের উপায় দেখাইতে বলায় তাহারা পারিল না। সুতরাং বিচারক মহাশয় রুল ডিসচার্জ্জ করিয়া দিলেন।

 পদে পদে আমাদের অনিষ্ট চেষ্টা করিয়াও সম্পাদকপ্রবর বিশেষ কিছু করিতে সক্ষম হইলেন না। ইহাতে তাঁহার ক্ষোভের পরিসীমা রহিল না। তিনি কত কথাই যে আমাদের বিরুদ্ধে বলিয়া বেড়াইতে লাগিলেন তাহার ইয়ত্তা ছিল না।

 একদিন প্ৰাতে ঘরে বসিয়া সংবাদ পত্র পাঠ করিতেছি এমন সময় দরজা খুলিয়া একটী যুবক প্রবেশ করেন। তাহার পরিধানে মলিন বস্ত্র, গাত্রে একখানা ছিন্ন চাদর ও পদ নগ্ন। চেহারা দেখিয়া কিন্তু তাহাকে ভদ্রবংশজাত বলিয়া বোধ হইল। আমার প্রণাম করিয়া সে একখানি পত্র দিল।

 উহা পাঠ করিয়া দেখি যে সুধাময় বাবু তাহাকে কোন কর্ম্মে নিযুক্ত করিতে আমায় অনুরোধ করিয়াছেন। সে বিশ্বাসী ও কর্ম্মপটু ইহাও জানাইয়াছেন। আমি তাহার আপাদমস্তক ভাল করিয়া দেখিলাম।