বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৪২ - প্রচার পুস্তিকা (১৯৫১).pdf/৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

এই শাসন ও শোষণের অনিবার্য্য প্রতিক্রিয়া দেখা দিলো ভারতবাসীর বৈপ্লবিক চেতনার মধ্যে। সন্ত্রাসবাদের পথ থেকে গান্ধীজী প্রবর্ত্তিত অহিংস পথে বিবর্ত্তিত হলো ভারতের মুক্তি সংগ্রাম। দুশো বছরের অধীনতা-বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল। কবে?

১৯৪৭-এ নয়—১৯৪২-এই তা সম্ভব হলো। অহিংস সংগ্রামের শেষ অধ্যায়ে ইংরেজের সে দম্ভ আর রইল না, তারা আগ্রহ প্রকাশ করলো ভারতবাসীর সঙ্গে আলোচনা করতে। এগিয়ে এলো শান্তির প্রস্তাব নিয়ে। কিন্তু সর্ত্ত ছিল মাত্র একটি—ছাড়ো ভারত। যে বৈপ্লবিক শক্তির প্রচণ্ড আঘাতে সাম্রাজ্যবাদীকে ভারত ছেড়ে যেতে হলো—এ চিত্র তারই রূপায়ণ মাত্র।

* * * * * *

বাংলার ছোট্ট একটি গ্রাম—আলিনান। নগর জনপদ অতিক্রম করে বিয়াল্লিশের আন্দোলনের তরঙ্গ এসে আঘাত করলো এই গ্রামের তটপ্রান্ত। জমিদারের বাড়ী দখল করে সামরিক কর্ত্তৃর্পক্ষ তাদের একটা ঘাঁটি বসিয়েছে এখানে। গ্রেপ্তারের পূর্ব্বমুহূর্ত্তে স্থানীয় কংগ্রেস-সেক্রেটারী বলে গেলেন—জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে তারা কখনো পেছনে পড়ে থাকেনি। এবারেও যেন তাঁর গ্রামবাসী মহাত্মাজীর নির্দ্দেশে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ঝাঁপিয়ে তারা পড়লো। তাদের মন্ত্র—করেঙ্গে ইয়ে সরেঙ্গে। তাদের দাবী—ছাড়ো ভারত। খবর এলো গান্ধীজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—গ্রেপ্তার করা হয়েছে কংগ্রেসের সমস্ত নেতৃবৃন্দকে আর কংগ্রেসকে ঘোষণা করা হয়েছে বে-আইনী প্রতিষ্ঠান। জনসভা। শোভাযাত্রা। সংঘর্ষ। বেয়নেট—গুলী—গ্রেপ্তার-ছোট্ট গ্রামখানিতে সুরু হলো প্রলয়-কাণ্ড।