ছিল। সহসা অল্প অল্প তুফান আরম্ভ হইল। জাহাজের কাপ্তান পাল টানিয়া দিলেন। রেঙ্গুন গুণমুক্ত সায়কের মত অগ্রসর হইতে লাগিল।
মধ্যে মধ্যেই ফিক্সের সহিত জিয়েনের সাক্ষাৎ হইত। একদিন কথোপকথন করিতে করিতে গোয়েন্দা কহিলেন,―
“হংকংএ পৌঁছিবার জন্য তোমরা বড় বেশী ব্যস্ত হয়েছ বলে বোধ হয়?”
“হাঁ, একটু হয়েছি বৈ কি।”
“মিঃ ফগ বুঝি সেখানে ইয়োকোহামার জাহাজ ধরবেন?”
“হাঁ। সেই জন্মই তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছেন।”
“পৃথ্বী-ভ্রমণের এই ব্যাপারটা কি তুমি সত্য সত্যই বিশ্বাস কর?”
“করি বৈ কি। কেন, আপনি কি করেন না?”
“মোটেই না।”
“আপনি ত দেখছি বড় ধূর্ত্ত!”
জিয়েনের কথা শুনিয়া ফিক্স গোয়েন্দা একটু বিচলিত হইলেন। ভাবিলেন, ‘আমি যে গোয়েন্দা এ কথা কি তবে প্রকাশ হ’য়ে পড়েছে না কি?’
সে দিনের মত তিনি আর সাহস করিয়া অন্য কোন কথা জিজ্ঞাসা করিলেন না।
জিয়েন ছাড়িবার পাত্র ছিল না। কথা প্রসঙ্গে অন্য একদিন সে নিজেই জিজ্ঞাসা করিল, “মিঃ ফিক্স, হংকং এর পর কি আর আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে না?”
কিছু বিব্রত হইয়া ফিক্স কহিলেন, “হাঁ―তা’ কি জান, এখনাই সে কথা ঠিক বল্তে পারা যায় না।” প্রত্যুত্তরে জিয়েন কহিল, “আপনি যদি বরাবর আমাদের সঙ্গে থাকেন তা’ হ’লে আমার বড় আনন্দ হ’বে।