কোম্পানীর কর্ম্মচারীর পক্ষে কি অর্দ্ধপথেই থেমে যাওয়া ভাল দেখাবে? গোড়ায় বলেছিলেন, আপনি শুধু বোম্বাই পর্য্যন্তই আসবেন। এখন ত দেখছি প্রায় চীনে এসে পড়েছেন। আমেরিকা ত আর বেশী দূর নয়। আর আমেরিকা থেকে পা বাড়ালেই ত ইউরোপ!”
গোয়েন্দা তখন নিতান্ত বিব্রত হইয়া জিয়েনের দিকে তীব্র কটাক্ষ পাত করিলেন। জিয়েন কথাটী বলিয়া নিতান্ত সরলভাবে হাসিতে লাগিল। সে হাসিতে হাসিতে বলিল, “এ ব্যবসায়ে আপনার বেশ দু’ পয়সা থাকে। কেমন না?”
অবিচলিত ভাবে ফিক্স উত্তর করিলেন, “হাঁ, কখন-কখনো কিছু থাকেও, আবার থাকেও না। আমাদের কাজেরও একটা মরসুম আছে। মরসুমের সময় একরকম মন্দ চলে না। তবে আমার যাতায়াতের খরচ-পত্র কিছু নিজের লাগে না।” জিয়েন আর একটু হাসিয়া কহিল, “সেটা ত বেশ বোঝাই যাচ্ছে।”
মিঃ ফিক্স আর কোনো কথা না কহিয়া নিজের কামরায় প্রত্যাবর্ত্তন করিলেন। সহস্র চিন্তা তাঁহাকে আকুল করিয়া তুলিল।
ইতিপূর্ব্বেই অল্প অল্প তুফান আরম্ভ হইয়াছিল। এখন তাহা প্রবল-হইয়া উঠিল। প্রতিকূল বাতাসে রেঙ্গুনের গতি অপেক্ষাকৃত শিথিল হইয়া পড়িল। মিঃ ফগ সেই চঞ্চল জলরাশির দিকে চাহিয়া দেখিলেন, কিন্তু তাঁহার বদনে চিন্তার রেখা মাত্র লক্ষিত হইল না। জিয়েন অত্যন্ত অস্থির হইয়া উঠিল। যদি তাহার ক্ষমতা থাকিত, তাহা হইলে সে পবনদেবকে তীব্র কষাঘাত করিতে ছাড়িত না। সে রেঙ্গুন জাহাজের নাবিকদিগকে যথাশক্তি সাহায্য করিতে লাগিল। তাহার কর্ম্মপটুতা দেখিয়া সকলে বিস্মিত হইয়া গেল।
দে দোল্—দে দোল্! প্রবল তরঙ্গের আঘাতে রেঙ্গুন দুলিয়া দুলিয়া