কাঁপিতে লাগিল। মিঃ ফিক্স মনে মনে অত্যন্ত প্রীত হইলেন। তিনি পবনদেবকে ডাকিয়া বলিতে লাগিলেন, ঝড় যেন থামে না। তিনি জানিতেন, আর দুই একদিন এইরূপ চলিলেই রেঙ্গুন সময় মত হংকংএ পৌঁছিতে পারিবে না—ইয়োকোহামার জাহাজ ছাড়িয়া চলিয়া যাইবে! জিয়েন যখন একান্ত উদ্বিগ্ন হইয়া তাহাদের বিপদের কথা মিঃ ফিক্সকে জানাইল, তথন তিনি মৃদু মৃদু হাস্য করিয়া সমবেদনা জ্ঞাপন করিলেন!
ঝড় অবশেষে থামিল বটে, কিন্তু রেঙ্গুনপোত নির্দ্দিষ্ট সময়ের ২৪ ঘণ্টা পর যাইয়া বন্দরে পৌঁছিল! ইয়োকোহামার জাহাজ বুঝি ছাড়িয়া গিয়াছে। তবে উপায়? জিয়েন বড় অধীর হইল। কি দুঃসংবাদ না জানি শুনিতে হইবে, এই শঙ্কায় সে বন্দরের আড়কাঠিকে কিছু জিজ্ঞাসা করিতে সাহস পাইল না। রাণী আউদা মিঃ ফগের বিপদে অত্যন্ত দুঃখিতা হইলেন। কিন্তু মিঃ ফগ যেন পাষাণ-গঠিত। তিনি একান্ত নিরুদ্বেগে কঠিলেন, “কোন চিন্তা নাই।” আড়কাঠিকে জাহাজের উপর দেখিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “ইয়োকোহামার জাহাজ কি চলে গেছে?”
“না—যায় নাই। জাহাজের বয়লার খারাপ ছিল বলে যেতে পারে নাই।”
“কখন্ যাবে?”
“কাল সকালে জোয়ার এলেই ছাড়বে।”
“জাহাজের নাম কি?”
“কর্ণাটিক।”
“ধন্যবাদ”
আড়কাঠি বিদায় হইতেছিল, জিয়েন আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া তাহার কর মর্দ্দন করিয়া কহিল, “আপনি অতি ভাল মানুষ―আপনাকে