বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ—গোয়েন্দার কাণ্ড
৯৯

জিয়েনের তাহাতে বিশেষ আপত্তি ছিল না। উভয়ে দোকানে প্রবেশ করিলেন।

 দোকানটী বেশ বড়। তাহার একটা সুসজ্জিত বৃহৎ কক্ষের একপার্শ্বে একটা সুবিস্তৃত শয্যা রচিত ছিল। জিয়েন দেখিল কতকগুলি লোক সেই শয্যার উপর নিদ্রামগ্ন। প্রায় ৩০ জন লোক ছোট ছোট টেবিলের চতুর্দ্দিকে বসিয়া কেহ বিয়র, কেহ বা পোর্টার, কেহ বা ব্র্যাণ্ডি, কেহ বা অন্যপ্রকার সুরা পান করিতে করিতে গল্প করিতেছিল। অনেকে আবার রক্তাভ মৃত্তিকার সুদীর্ঘ নলে গোলাপজলে সিক্ত অহিফেনের ধূমপানে ব্যস্ত ছিল। যাহারা অহিফেন-ধূমপানে হতজ্ঞান হইয়া টেবিলের নিম্নে পতিত হইতেছিল, পরিচারকগণ তাহাদিগকে সযত্নে তুলিয়া সেই সুবিস্তৃত শয্যার উপর রক্ষা করিতেছিল।

 মিঃ ফিক্স অবস্থা দেখিয়াই বুঝিলেন যে তাঁহারা চীন দেশের একটী গুলির আড্ডায় আসিয়াছেন। নরসমাজে যত প্রকার কদভ্যাস বর্ত্তমান আছে, তন্মধ্যে অহিফেন-সেবনই সর্ব্বাপেক্ষা অনিষ্টকারী। আমরা যে সময়ের কথা বলিতেছি, তখন এই বদভ্যাস চীনের রাজপ্রাসাদ হইতে দরিদ্রের পর্ণকুটীরে পর্য্যন্ত বিস্তার লাভ করিয়া একটী সমগ্র জাতিকে দুর্ব্বল ও অকর্ম্মণ্য করিয়া তুলিয়াছিল! এমন কি রমণীরা পর্য্যন্ত ইহার কবল হইতে মুক্তি পাইয়াছিল না!

 মিঃ ফিক্সের আদেশে দুই বোতল পোর্ট সুরা আসিল। তাঁহারা পান করিতে লাগিলেন। ধীরে ধীরে বোতল নিঃশেষিত হইতে লাগিল, ধীরে ধীরে গল্পের স্রোত চলিতে লাগিল। জিয়েনের হঠাৎ মনে হইল কর্ণাটিক জাহাজ ছাড়িবার সময় পরিবর্ত্তিত হইয়াছে। সে উঠিল। কহিল―

 “জাহাজ সন্ধ্যার সময় ছাড়বে। মনির মশায়কে খবর দিতে হবে। আমি উঠি।”