তাহাকে বাধা দিয়া গোয়েন্দা কহিলেন, “আহা আর একটু বসো না। এত তাড়াতাড়ি কি― এখনো ঢের সময় আছে।”
“কেন? কিছু দরকার আছে কি?”
“তোমার সঙ্গে একটা গুরুতর কথা আছে।”
“গুরুতর কথা! কি কথা? আজ ত সময় নাই, কাল শুনলেই চল্বে। আপনিও ত কর্ণাটিকেই যাবেন।”
“কাল শুনলে চল্বে না—আজই শুনতে হবে। আর একটু বসো! কথাটা তোমার মনিবের সম্বন্ধেই।”
জিয়েন তীব্র দৃষ্টিতে গোয়েন্দার মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, “আমার প্রভুর সম্বন্ধেই! কি কথা—”
সে পুনরায় একখানি চেয়ারে উপবিষ্ট হইল। আবার মদ্য আসিল। আবার উভয়ে পান করিলেন। মিঃ ফিক্স জিয়েনের বাহুমূল স্পর্শ করিয়া অনুচ্চস্বরে কহিলেন,—
“আমি যে কে তা’ বোধ হয় তুমি বুঝতে পেরেছ?”
“কতকটা পেরেছি বৈকি।”
“তবে আর কি। এখন আমি সব কথাই তোমাকে খুলে বল্তে পারি।”
“আমি যখন আপনাকে চিনে ফেলেছি, তখন আর বলতে বাধা কি—বলে ফেলুন। কিন্তু আমি আগেই জানিয়ে রাখি তাঁরা আপনাকে পাঠিয়ে মিছামিছি কেবল হয়রাণ করছেন।”
“এতেই বেশ বোঝা যাচ্ছে, টাকাটা যে কত, সে খোঁজ তুমি রাখ না।”
“রাখি না! রাখি বৈ কি। তিন লক্ষ টাকা।”
ফরাসীর বাহু সজোরে ঝাঁকাইয়া দিয়া মিঃ ফিক্স কহিলেন, “তিন লক্ষ কি হে! সাড়ে আট লক্ষ!”