জানিতেন না। তিনি সাধারণ বেশ-ভূষাতেই তুষ্ট থাকিতেন। আপন বলিতে পৃথিবীতে যে তাঁহার আর কেহ কোথাও ছিল, এ পরিচয়ও পাওয়া যায় না। কিন্তু তাঁহার সাংসারিক কর্ম্ম ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় সম্পন্ন হইত—তাহার এক মিনিট এ দিক্ ও দিক্ হইবাব উপায় ছিল না।
ভূগোল সম্বন্ধে ফিলিয়াসের যেরূপ জ্ঞান ছিল তাহা দেখিলেই মনে হইত, তিনি নানা দেশ পরিভ্রমণ করিয়াছেন। কবে কোন্ পর্য্যটক কোথায় কিরূপে গিয়া আর প্রত্যাবর্ত্তন করেন নাই, ফিলিয়াস্ তাহা পর্য্যন্ত জানিতেন। অথচ লণ্ডন নগরের বাহিরে যাইতে কেহ তাঁহাকে কখনো দেখে নাই। যাঁহারা তাঁহাকে ভালরূপে জানিতেন, তাঁহারা দেখিতেন, আপন গৃহ হইতে সংস্কার-সমিতির মিলন-মন্দিরে (ক্লাবে) এবং তথা হইতে পুনরায় আপন গৃহে ভিন্ন ফিলিয়াস্ আর কোথাও যাইতেন না। রকম সকম দেখিয়া কেহ কেহ মনে করিত যে তাঁহার মাথার ঠিক ছিল না।
বাজী রাখিয়া তাসক্রীড়া ভিন্ন ফিলিয়াসের আর কোনো ব্যসন ছিল না। সমিতির কক্ষে বসিয়া তিনি কেবল সংবাদপত্র পাঠ করিতেন এবং বন্ধুদিগের সহিত তাস খেলিতেন। ক্রীড়ায় সর্ব্বদা তাঁহারই জয় হহত। বাজীৱ টাকা ফিলিয়াস্ দানেই বায় করিতেন—নিজে লইতেন না। তিনি যে অর্থের লোভে তাস খেলিতেন তাহা নহে। দক্ষতার সহিত হুইষ্ট খেলিতে যে কৌশল আবশ্যক হইত, শুধু তাহারই পরীক্ষার জন্য তিনি তাস খেলিতেন। সে যেন তাঁহার নিকট একটা যুদ্ধ বলিয়া মনে হইত। সে সমরে রক্তপাত ছিল না—ক্লান্তি ছিল না—তেমন বেশী পরিশ্রমও ছিল না।
পূর্ব্বেই বলিয়াছি, ফিলিয়াসের পুত্ত্র-কলত্র কিছুই ছিল না। সেভিল্রোর একটা নির্জ্জন গৃহে তিনি একাকী বাস করিতেন। কেহ যে সেখানে