নয় কি? নিশ্চয়ই তাই! তাঁরাই আবার বন্ধু বলে’―ভদ্রলোক বলে’ পরিচয় দেন!
ফিক্স বড় গোলমালে পড়িলেন। জিয়েন বলিতে লাগিল, “এঁরাই বন্ধু! এঁরাই আবার সংস্কার-সমিতির সদস্য! মিঃ ফিক্স আপনি কি জানেন না যে আমার প্রভু অতি সাধু সদাশয় মহৎ লোক। তিনি যে বাজী ধরেছেন, সদুপায়েই তা’ জিতে নেবেন।”
জিয়েনের দিকে এক দৃষ্টে চাহিয়া মিঃ ফিক্স কহিলেন, “আমি যে কে তা’ কি তুমি কিছু বুঝতে পেরেছ?”
“আপনি আর কে! সংস্কার-সমিতির একজন গোয়েন্দা! আমার মনিবকে পদে পদে বাধা দিতেই এতদূর পর্য্যন্ত এসেছেন। আমি ত অনেক দিনই আপনাকে চিনেছি, কিন্তু মনে দুঃখ পাবেন বলে মিঃ ফগের কাছে এ কথা ভাঙ্গি নাই।”
ফিক্স তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করিলেন, “তা’ হলে তিনি এর বিন্দুবিসর্গও জানেন না?”
ব্রাণ্ডির গ্লাসটা এক নিশ্বাসে শেষ করিয়া জিয়েন কহিল, “কিছু মাত্র না।”
গোয়েন্দা ফিক্স দুই হস্তে চক্ষুর্দ্বয় আবৃত করিয়া ক্ষণিকের জন্য আপন কর্ত্তব্য চিন্তা করিলেন। তিনি দেখিলেন, জিয়েন নিতান্ত সরল। সে নিশ্চয়ই ব্যাঙ্ক-দস্যুতায় মিঃ ফগের সহযোগী ছিল না। গোয়েন্দ ভাবিল যদি তাই হয়, তা’ হ’লে অবশ্যই সে আমাকে সাহায্য করবে। অধিকক্ষণ চিন্তা করিবার সময়ও আর তখন ছিল না। যেমন করিয়া হউক মিঃ ফগকে হংকংএ ধরিয়া রাখাই তখন একান্ত প্রয়োজন হইয়াছিল। তিনি কহিলেন, “শোন—তুমি যা’ ভাবছ, আমি তা’ নই।”
বিস্মিত হইয়া জিয়েন কহিল, “সে কি!”