“লণ্ডন পুলিশের বড় কর্ত্তা আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি একজন গোয়েন্দা পুলিশ!”
“আপনি গোয়েন্দা পুলিশ!”
“বিশ্বাস হচ্ছে না? এই তার প্রমাণ দেখ।” ফিক্স মুহূর্ত্ত মধ্যে তাঁহার নিয়োগ-পত্র প্রভৃতি বাহির করিয়া সেই কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় নিরুদ্ধবাক্ ফরাসীর সম্মুখে ধরিয়া বলিতে লাগিলেন, “বাজী ধরার একটা মিথ্যা-কাহিনী রচনা করে মিঃ ফগ তোমাকেও ঠকিয়েছেন, আর সংস্কার-সমিতির সদস্যদেরও ফাঁকি দিয়েছেন! তুমি যাতে কিছু বুঝতে না পেরে তাঁর সহায়তা কর, এটাও তাঁর একটী মতলবের মধ্যে।”
“কেন? তাঁর লাভ কি?”
“লাভ?―এই দেখ না, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ইংলণ্ডের ব্যাঙ্ক থেকে সাড়ে আট লক্ষ টাকা চুরি যায়। সৌভাগ্যক্রমে দস্যুর মুর্ত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। মিঃ ফগের সঙ্গে সে মূর্ত্তির ঠিক মিল আছে!”
হস্তদ্বারা টেবিলে সজোরে আঘাত করিয়া জিয়েন কহিল, “এ হ’তেই পারে না―এ কথা একেবারে অসম্ভব! আমার মনিবের মত একজন সজ্জন পৃথিবীতে দুর্লভ।”
“তুমি তার কি জানবে! যেদিন মিঃ ফগ এই একটা পাগলামীর খেয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন, তুমি ত সবে সেই দিনই তাঁর কর্ম্মে নিযুক্ত হয়েছিলে। মনে করে’ দেখ দেখি সে দিন তাঁর সঙ্গে কি ছিল। কোন জিনিষ-পত্র ছিল কি? কেবল ছিল একটা কার্পেটব্যাগ আর তার মধ্যে কতকগুলো ব্যাঙ্ক নোট! এখনো কি তুমি বলতে চাও যে তিনি একজন সাধু পুরুষ?”
যন্ত্রচালিতবৎ জিয়েন কহিল, “হাঁ হাঁ, তার পর!”
“দস্যুর সহযোগী বলে’ তুমিও কি গ্রেপ্তার হ’তে চাও?”