বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৮
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

 মিঃ ফগ তাঁহার স্বভাবসিদ্ধ ধৈর্য্যের ও গাম্ভীর্য্যের সহিত বলিলেন “কর্ণাটিক ছাড়াও হংকং বন্দরে আরো অনেক জাহাজ ত দেখা যাচ্ছে!” তিনি আর কালবিলম্ব না করিয়া রাণী আউদাকে সঙ্গে লইয়া জাহাজ ঘাটার দিকে চলিলেন।

 গোয়েন্দা অবাক্! ভাবিলেন ‘এরা বলে কি!’ তিনিও ফগের পশ্চাদনুসরণ করিলেন।

 ঘুরিতে ঘুরিতে তিন ঘণ্টা কাটয়া গেল, একখানি অর্ণবপোতও সংগৃহীত হইল না। কোন জাহাজে পণ্যাদি বোঝাই হইতেছিল, কোন জাহাজ হইতে বা ভারে ভারে নামিতেছিল। কেহই ইয়োকোহামায় যাইতে সম্মত হইল না! অদৃষ্টলক্ষ্মী কি ফিলিয়াস্ ফগকে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন?

 গোয়েন্দা ফিক্স প্রফুল্ল হইলেন।

 মিঃ ফগ তখনো ঘাটে ঘাটে অনুসন্ধান করিতেছিলেন। পথিমধ্যে একজন নাবিকের সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ হইল। নাবিক কহিল, “হুজুর কি যানের সন্ধানে ফিরছেন?”

 “এখনই ছাড়তে পার, তোমার এমন কোন তরণী আছে?”

 “আছে হুজুর। ৪৩ নম্বর আড়কাটীর নৌকাই আমার। এ বন্দরে ওর চেয়ে ভাল নৌকা আর পাবেন না।”

 “বেশ দ্রুত যেতে পারবে ত?”

 “ঘণ্টায় ৮।৯ মাইল করে’ চলে। আসুন না একবার দেখবেন চলুন।”

 “চল।”

 “দেখলেই আপনার মনে ধরবে। বুঝি সমুদ্রের মধ্যে একটু বেড়ানো-চেড়ানোর জন্যই নৌকাখানা চাই?”