“হাঁ তাই বটে। তবে ঠিক বেড়ানো নয়, তার চেয়ে একটু বেশী। এই ধর না—সমুদ্র―যাত্রা।”
“সমুদ্র―যাত্রা!”
“আমি ইয়োকোহামা যেতে চাই।”
নাবিক হতবুদ্ধি হইয়া মিঃ ফগের মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, “হুজুর ঠাট্টা করছেন না ত?”
“না ঠাট্টা কেন। আমি কর্ণাটিক জাহাজ ধরতে পারি নাই। ১৪ই তারিখের মধ্যেই আমাকে ইয়োকোহামা পৌঁছিতে হ’বে। দেরি হ’লে চলবে না। সেখানে যেয়ে সান্ফ্রান্সিস্কোর জাহাজ ধরা চাই।”
“বড় দুঃখিত হচ্ছি―সেটা অসম্ভব।”
“আমি দিন ১০০০ টাকা ভাড়া দিব। আর যদি ঠিক সময়মত যেতে পায়, তাহ’লে আরো তিন হাজার টাকা পুরস্কার পাবে।”
“আপনি সত্যই যাবেন ত?”
“নিশ্চয়ই যাব।”
নাবিক একবার আকাশের দিকে চাহিল, আবার সেই অপার লবণাম্বুরাশির দিকে দৃষ্টিপাত করিল। শেষে চিন্তামগ্ন হইয়া ইতস্ততঃ পদচারণ করিতে লাগিল। একদিকে প্রভূত ধনরাশি, অপর দিকে জীবনের আশঙ্কা। তাহার মনের ভিতর একটা যুদ্ধ চলিতে লাগিল।
গোয়েন্দা ফিক্স তখন যেন কাঁটার উপর ঝুলিতেছিলেন! মিঃ ফগ আউদার দিকে চাহিয়া কহিলেন, “ছোট নৌকা, আপনার ভয় হ’বে না ত?”
“না। আপনার সঙ্গে যেতে আর ভয় কি।”
অনেক চিন্তার পর মাথার টুপী খুলিয়া ছড়ির অগ্রভাগে ঘুরাইতে ঘুরাইতে নাবিক আসিয়া কহিল, “আমার ছোট নৌকা, আমি অতদূর